ঢাকা শেয়ার বাজার

২৩ জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

অনিয়ন্ত্রিত মার্জিন লোন শেয়ার বাজারের বিষফোঁড়া

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  facebook.com/dhakasharebazar

শেয়ার বাজার সারা বিশ্বে একটা অভিজ্ঞ ও স্মার্ট মানুষের ব্যবসা। শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে হলে প্রতিদিন আপনাকে শেয়ার বাজার ও শেয়ার বাজারে থাকা কোম্পানি গুলো নিয়ে পড়াশুনা করতে হবে। মোট কথা শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট সব কিছুর সাথে হালনাগাদ থাকতে হবে।

শেয়ার বাজারের মার্জিন লোন নিয়ে আজ কিছু আলোচনা করা যাক। শেয়ার বাজারের মার্জিন নিয়ে আলাপ করলে প্রথমেই বলতে হবে, “শেয়ার বাজারে মার্জিন লোন সবার জন্য নয়”। খুব অভিজ্ঞ না হলে মার্জিন লোনকে না বলুন। মনে রাখবেন আপনি যখন শেয়ার বাজারের একজন খুব অভিজ্ঞ ও স্মার্ট বিনিয়োগকারী না, তখন মার্জিন লোণ আপনার জন্য একটি মরণফাঁদ। যে ফাঁদে একবার পরলে বের হওয়া যায় না। আসলে আমাদের বাজারে টিকে থাকতে হলে নিজের পুঁজির নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হবে। লোন না নিয়ে যতটুকু পুঁজি আছে ততটুকুই সুপরিকল্পনা করে আগান। আসলে লোন নিয়া ব্যবসা করার অবস্থা আমাদের বাজারে নেই। যদি থাকতো, তাহলে আপনাকে লোন না দিয়ে ইন্সটিটিউট গুলো নিজেরাই ব্যবসা করত। আমজনতাকে ১৫-১৮% সুদে মার্জিন লোন দিতোনা।

তাহলে ভাবুন  ইন্সটিটিউটের চাইতেও কি আপনি বা আমি অতি স্মার্ট? তাদের কাছ থেকে লোন নিয়া ব্যবসা করি আমরা।

বলাই যায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি পর্যায় মার্জিন লোন নিয়ে শেয়ার বাজারে সফল হওয়া প্রায় অসম্ভব। উল্লেখ্য ২০১০ পরবর্তী, ২০১১ সালে বেশির ভাগ মানুষেই প্রায় সব টাকা শেষ হয়েছিল শুধু লোনের কারণে।

এই লোনের কারনেই ২০১৯ এর শেষ দিকে ও ২০২০ এর শুরুর দিকে ফোর্স সেলের কবলে পরে অনেক কোম্পানির শেয়ার। অসংখ্য বিনিয়োগকারী সব টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল তখন। শেয়ার বাজারের এই সব শেয়ারের ফোর্স সেলের বিক্রি চাপে তখন পুরো বাজার তছনছ হয়ে গিয়েছিল। এই সব ফোর্স সেলের ফলে লোণ গ্রাহকরা পথে বসে যাচ্ছে শুধু তাই না, এর প্রভাব পুরো বাজারে ধস আরো নামে।

কিন্তু লোন দেয়ার নিয়ম কানুন থাকলেও সেগুলো ফলোআপ করা হচ্ছেনা বললেই চলে। এসব আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি জানার পরও প্রায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। নীতিনির্ধারক পর্যায়ের লোকজন যদি একটু আন্তরিক ও কঠিন ভাবে কাজ করে, তাহলে সাধারণ মানুষ এতো ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা বলে আশা করা যায়।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, খুব অভিজ্ঞ না হলে, কেউ মার্জিন লোন নিয়া ব্যবসা করবেন না। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে লোন নিয়ে ব্যবসা করার মতো অবস্থা আসলেই নেই। যারা কম বুঝেন এবং অল্প টাকা নিয়া ব্যবসা করেন, তাদের মার্চেন্ট ব্যাংকের হাউজে কোড থাকলেও সব সময়ই লোন এড়িয়ে চলুন। অবশ্য মার্চেন্ট ব্যাংকে কোড থাকলেই সবার দেখাদেখি আপনারও লোন নিতে ইচ্ছা করবে।  আর একটা সময় আপনি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবেন। এমন অনেক জনকে দেউলিয়া হতে দেখা গেছে ইতিপূর্বে।

সবার উদ্দেশ্যে বলবো মার্জিন লোন তো নিবেন না, এমন কি আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা ধার নিয়েও শেয়ার ব্যবসা করবেন না।

এমন টাকা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন, যে টাকা আগামি দুই বছরে আপনার দরকার হবেনা। মূলকথা কখনোই অলস ফান্ড ছাড়া শেয়ার ব্যবসাতে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজার লোনের জন্যে হোঁচট খায় বার বার, বিশেষ করে যখন বাজার নেতিবাচক থাকে।  তাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে লোনকে না বলা উত্তম।

মনে রাখবেন শেয়ার বাজার পতনের সময় কোন মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকার হাউস আপনাকে লোন দিবে না। তাহলে ভাবুন কেন?! শেয়ার বাজার পতনের সময় কেন তারা লোন দেয়না!

প্রতিবার বাজার পতনে সবচেয়ে বেশি সমস্যাতে পরে এবং অন্যদের সমস্যায় ফেলে এই মার্জিন লোন এডজাস্ট।

কর্তৃপক্ষের উচিত সব হাউজ লোন কিভাবে কোন শর্তে দেয় সেগুলো তদারকি করা। আমরা অনেকেই মার্জিন লোন নিয়ে শেয়ার বাজারে ব্যবসা করি। মার্জিন লোন নেওয়ার আগে অনেক কিছু হিসাব করা উচিত, যা আমরা করিনা। ফলশ্রুতিতে আমরা অনেক পুঁজিসহ লস করি।

দুঃখজনক হলেও সত্য মুষ্টিমেয় কিছু লোক লাভবান হয় মার্জিন লোন নিয়ে। মার্জিন লোনে মূলত ব্রোকার হাউসগুলো ভালো কমিশন পায় ও তাদের মোট লেনদেন বাড়ে। এই কারণেই তারা মানুষকে লোন নিতে উৎসাহিত করে। বেশির ভাগ লোকই মার্জিন লোন নেয় অনেক আশা নিয়ে। পরিশেষে তাদের ফিরতে হয় নিঃস্ব হয়ে। আসলে বাংলাদেশের যে শেয়ার বাজার এখানে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ দিয়ে, তারপর বাজার থেকে লাভ তোলা কঠিন থেকে কঠিনতর বিষয়।

মূলত লোন নিয়ে ব্যবসা করার অবস্থা আমাদের বাজারে নেই। যদি হত তাহলে, আপনাকে লোন না দিয়া ইন্সটিটিউটগুলি নিজেরাই ব্যবসা করত। আমজনতাকে ১৪/১৮ শতাংশ সুদে টাকা ধার দিত না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাজার যখন ভালো থাকে মোট লেনদেন বাড়ে ঠিক তখন ইন্সটিটিউট গুলি মার্জিন লোন দেয় ও উৎসাহিত করে। আবার বিনিয়োগকারীরা তখনই লোন নিতে উৎসাহিত হয়। কিন্তু বাজার যখন নেতিবাচক হয় তখন ইন্সটিটিউট গুলি লোন তো দেয়ই বরং লোন এডজাস্টের মাধ্যমে ফোর্স সেল করে দেয়। বাজার যখন নেতিবাচক হয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় লোনের এডজাস্ট এর কারণে বাজার ও বিনিয়োগকারীরা ।

যারা মার্জিন লোন নেন তাদের জন্যে কিছু কথাঃ

একে বারেই যারা নতুন বিনিয়োগকারী তারা মার্জিন লোন পরিহার করুন। মার্জিন লোন একটা ফাঁদ। নিজের মূলধন নিয়ে লেনদেন করুন। অভিজ্ঞতা না থাকলে লোনকে এড়িয়ে চলুন। তবে হ্যা আপনি যদি দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হন, শুধু মাত্র তাহলেই মার্জিন লোন নিন, তাও কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায় দেশের প্রেক্ষাপটে।

যদিও নেতিবাচক বাজারে মার্জিন লোনে ঝুঁকি তুলনামুলক কম থাকে, কিন্তু তখন কোন ইন্সটিটিউট আপনাকে লোন দিবেনা। বাড়তি বাজারে মার্জিন লোন মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে নতুনদের জন্য। কিন্তু তখনই আপনাকে লোন দিতে ও নিতে উৎসাহী করবে ইন্সটিটিউট গুলো। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে যে কোন লোনের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ ছিল কিছুদিন আগে  অথচ মার্জিন লোনের সুদের হার ১৪-১৮ শতাংশ  । এই বিষয়টি থেকে বিচার করলে বাংলাদেশে মার্জিন লোনের সুদের হার আসলেই খুব বেশি। যেকোন ঋণের ব্যবস্থাপনার চেয়ে মার্জিন লোণের ব্যবস্থাপনা, প্রদান ও গ্রহন সহজ। সরকারের উচিৎ দেশের মধ্যে এই লোন সুদ শতাংশ বৈষম্য দূর করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়তা করা।

উল্লেখ্য  দেশের শেয়ার বাজারে  ফ্লোর প্রাইজ বহাল ছিল প্রায় ১৮ মাস, ফ্লোর প্রাইজ তুলে দেয়া হলে সবচেয়ে বেশি লুজার হবে মার্জিন লোন হোল্ডারগন এমন অনুমান করা গিয়েছিল আগেই।ঠিক তার ই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে চলতি মাসে  ২ দফায় ফ্লোর তুলে দেয়ার পরে ।বাজারে রিউমারস ছড়িয়ে পরেছে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে ফোর্স সেল হচ্ছে ,যে কারণে এই মুহূর্তে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গিয়েছে আতংকে।

পরিশেষে একটি কথা বলবো বাংলাদেশের পুঁজিবাজার পতনের সময় সুনামি গতিতে পতনের জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী মার্জিন লোন ও তার অব্যবস্থাপনা। তাই এটিকে কিভাবে সংস্কার করা যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী।

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন

একটি রেসপন্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শেয়ার বাজার
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!