আমি একজন বাংলাদেশি শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। আমি দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার বাজারে ব্যাবসা করছি এবং শেয়ার বাজারের নানান দিক নিয়ে অবগত আছি।
আমার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা ও বাজার অবগত থেকে, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের দিকে তাকালে আমার মনে হয় আমরা এখনো শেয়ার বাজারের জন্য প্রস্তুত না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের দিকে তাকালে দেখি তাদের বাজার অনেক সময় ওঠা নামা করে। অনেক শেয়ারের দাম কয়েকশো গুন বাড়ে। কিন্তু তা কোম্পানির ভালো কোন খবরে বা ইপিএস ডিভিডেন্ট ঘোষণা করার পর।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের বাজারে ভালো কোন খবরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়েনা। কেননা ভালো খবর প্রকাশ পাবার আগেই ম্যানুপুলেটকারীরা ইনসাইডার থেকে খবর পেয়ে নিউজ আসার আগেই দাম বাড়িয়ে নেয়। আর ভালো নিউজ বা ভালো ডিভিডেন্ড দেয়ার পরে আমজনতাদের শেয়ার ফিডিং করিয়ে দেয়। যে কারণে বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীগন লাভ করতে পারেনা।
প্রতিটি দেশের মার্কেটের মিউচুয়াল ফান্ড হলো শেয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য ভিত্তি, কিন্তু আমাদের দেশের মিটচুয়াল ফান্ডের এই অবস্থার একদম বিপরীত, কিন্তু কেন?!
মিউচুয়াল ফান্ড ভালো মুনাফা দেখালে, দেশের হাজার হাজার মানুষ মিউচুয়াল ফান্ড কিনে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতেন এবং মানুষ বছরের পর বছর মুনাফা পেতেন আমার ধারনা। অনেক প্রবাসীরা হাজার হাজার কোটি টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট করতেন, তাহলে আমাদের বাজার আরো অনেক বড় হত। বাজারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ত।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নতুন কমিশনার শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম আসার পর আমাদের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। আমাদের ধারণা ছিল যে, বাজারটি অনেক বড় হবে এবং বাড়তে থাকল। কিন্তু হতাশার হয়েছি, সাথে অনেকে বিনিয়োগকারী অনেক কিছু হারিয়েছেন। যেমন ইন্সুরেন্সের যেভাবে দাম বেড়েছিল অনেক মানুষ ইনভেস্ট করে তাদের মূলধন হারিয়েছেন। অনেকের পোরর্টফলিব খালি হয়ে গিয়েছে।
বারবার ছোট বিনিয়োগকারীরা আমাদের বাজারে মূলধন হারিয়েছেন। নীতিনির্ধারকদের কাছে অনুরোধ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যে কিছু করুন। আমার মনে বার বার একটা কথাই ফিরে ফিরে আসে, আমরা আমজনতা কি এখনও এই শেয়ার বাজারের জন্য প্রস্তুত? কিংবা বাজার কি আমজনতার জন্য প্রস্তুত?
লিখেছেন
আনোয়ার আলমগীর
শেয়ার বাজার বিনিয়োগকারী
সিলেট