দেশের শেয়ারবাজারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৪০৩ টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে লোকমুখে শোনা যায় অনেক কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ। কোন কোম্পানিগুলো বন্ধ আছে সেই তালিকা কোথাও নেই।
২০২৩ সালের জুলাই মাসের পর থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বিভিন্ন কোম্পানি পরিদর্শন করবে কোন কোম্পানিগুলো বন্ধ আছে, কোন কোম্পানিগুলো উৎপাদনে আছে, যাচাই–বাছাই করার উদ্দেশ্যে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৪২ টি কোম্পানির কার্যক্রম ও কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকসংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে অনুমোদন চায় ডিএসই।
তখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ১৪টি কোম্পানির কার্যক্রম ও কারখানা পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। এরপর পরিদর্শন শুরু করে ডিএসই।
তালিকাভুক্ত যে ১৪টি কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ একচেঞ্জ কমিশন বিএসইসি অনুমোদন দিয়েছে, সেই কোম্পানিগুলো – খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি, নর্দার্ন জুট, ফরচুন সুজ, ন্যাশনাল ফিড মিলস, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস, ফ্যামিলিটেক্স, কেয়া কসমেটিকস, রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস, ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, উসমানিয়া গ্লাস শিট, জাহিনস্পিনিং ও জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ৫ টি কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন করে তারা কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ আছে দেখতে পেয়েছেন। গত ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা স্টকএক্সচেঞ্জ বেশ কয়েকটি কোম্পানি পরিদর্শন করেছিল, যার মধ্যে কিছু কোম্পানি বন্ধ ছিল এমন কি গেটে তালা লাগানো ছিল, কোন লোকজনের সাথে কথা বলা যায়নি।বন্ধ থাকা কোম্পানি ৫ টি হল – নর্দান জুটমিল লিমিটেড, রিজেন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড, দুলামিয়া কটন লিমিটেড, ফ্যামিলি টেক্স লিমিটেড এবং ওসমানিয়া গ্লাস লিমিটেড।
গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারী ডিএসইর প্রতিনিধি দল তালিকাভুক্ত পেপার এন্ড প্রিন্টিং খাতের কোম্পানি খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের(KPPL) বর্তমান কার্যক্রম জানতে কারখানা পরিদর্শন করেছে।পরিদর্শনকালে তাদের কোম্পানি বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে।
সিকিউরিটিজ আইনানুসারে কারখানা কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সে তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও স্টক এক্সচেঞ্জকে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানায়নি উক্ত ৬ কোম্পানি পরিদর্শন করার আগে । এর আগে এক্সচেঞ্জটির কর্মকর্তারা ফ্যামিলিটেক্স (বিডি), উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, দুলামিয়া কটন মিলস ও রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের কারখানা পরিদর্শনে গিয়েও বন্ধ পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে এখন বন্ধ থাকা কোম্পানি ৬ টি হলঃনর্দান জুটমিল লিমিটেড, রিজেন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড, দুলামিয়া কটন লিমিটেড, ফ্যামিলি টেক্স লিমিটেড ,ওসমানিয়া গ্লাস লিমিটেড এবং খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের(KPPL) ।
নিঃসন্দেহে এই উদ্যোগটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ প্রসংসার দাবি রাখে। এভাবে পুরো তালিকাভুক্ত কোম্পানি গুলি পরিদর্শন করে, পরিদর্শনকৃত কোম্পানি মধ্যে যেসব কোম্পানি বন্ধ আছে, সেগুলো ডিএসইর ওয়েবসাইটে যদি দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আপামর বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। তারা দেখতে পারবেন কোন কোম্পানি বন্ধ আছে তাহলে তারা দেখে-শুনে বিনিয়োগ করতে পারবেন, তাতে বিনিয়োগকারীদের ঝুকি কমে আসবে।
ভবিষ্যতে যাতে মানহীন কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, সে বিষয় কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। মানহীন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে ইস্যুয়ার কোম্পানি ও চার্টার ফার্মগুলোকেও আইনের আওতাধীন করা উচিৎ। আজেবাজে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবার পিছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী ইস্যুয়ার কোম্পানি ও চার্টার ফার্ম।