দেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ন্যাশনাল রোমিং সেবা চালু করল বাংলালিংক ও টেলিটক। এখন থেকে টেলিটক ও বাংলালিংক একে অপরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে। নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন গ্রাহক বাংলালিংক সিমে টেলিটক কিংবা টেলিটকের সিমেই পাবেন বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক।
গত মঙ্গলবার (৩১শে অক্টোবর) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আপাতত এই ব্যবস্থার সীমিত পর্যায়ের ফিল্ড ট্রায়াল উদ্বোধন করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জাতীয় রোমিং ফিল্ড ট্রায়ালের উদ্বোধন করেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলালিংকের সিইও এরিক অস এবং টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বক্তৃতা করেন।
বর্তমানে সাড়ে ১৪ হাজার টাওয়ারের মাধ্যমে ৪ কোটি ২৮ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে বাংলালিংক। বিপরীতে প্রায় ৬ হাজার টাওয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লাখ গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে টেলিটক। এ অবস্থায় সারা দেশে নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে রোমিং সেবা চালু করল অপারেটর দুটি।
এই উদ্যোগের ফলে বাংলালিংকের টাওয়ারগুলোতে যুক্ত হয়ে সারা দেশে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিয়ে হাজির হতে পারবে টেলিটক। একইভাবে সুন্দরবন, হাওর ও পার্বত্য এলাকায় টেলিটকের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
কোথাও টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই কিংবা দুর্বল হলে ওই এলাকায় টেলিটক গ্রাহকের ফোনের ডিসপ্লেতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলালিংক নেটওয়ার্ক দেখানো হবে। অর্থাৎ, বাংলাংলিংক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে টেলিটক সিম। একই সুবিধা মিলবে বাংলালিংকের গ্রাহকের ক্ষেত্রেও।
নতুন এই সেবা নিতে গ্রাহকের কোনো অর্থ খরচ হবে না। নিজেদের মধ্যে এই নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের বাণিজ্যিক চুক্তি অনুযায়ী অর্থ লেনদেন করবে টেলিটক ও বাংলালিংক।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন,
মাত্র ৬ হাজার বিটিএস টাওয়ার দিয়ে আমরা যতটুকু পেরেছি ততটুকু টেলিটককে এগিয়ে নিয়ে গেছি। টেলিটককে বলা যায় একধরনের জোর করে ধাক্কা দিয়ে তাকে সক্ষম করার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি জাতীয় রোমিং ফিল্ড ট্রায়ালের উদ্বোধনকে ডিজিটাল সংযুক্তির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় জীবনে ডিজিটাল সংযুক্তির সম্প্রসারণে আরও একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করল বাংলাদেশ।
টেলিটক ও বাংলালিংকের মধ্যে রোমিং চালুর বিষয়টি দেশের ডিজিটাল সংযুক্তির বিকাশে আরও একটি মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বাংলালিংক ও টেলিটকের মধ্যে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দেশব্যাপী টেলিটক ও বাংলালিংক গ্রাহকদের মোবাইল সংযোগের পরিসর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি অপারেটর দুটির মধ্যে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে ভূমিকা রাখবে।’
ফিল্ড ট্রায়াল শেষ হওয়ার পরে সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে গ্রাহকরা দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাভারেজের মাধ্যমে ভয়েস, এসএমএস ও ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন। এই উদ্যোগ দেশে শক্তি সংরক্ষণ ও পরিবেশ-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণকেও উৎসাহিত করবে।
আমি টেলিটক এবং বাংলালিংকের মধ্যে এই পার্টনারশিপ দেখে আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের টেলিকম অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এটি উভয় অপারেটরের জন্যই ইতিবাচক, কারণ এর মাধ্যমে তারা একে অপরের অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে।
ভারত, থাইল্যান্ড, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর ২২টি দেশে ন্যাশনাল রোমিং চালু রয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, এটি গ্রাহক এবং অপারেটরের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি পদ্ধতি।
এদিকে বাংলালিংকের পাশাপাশি রোমিং সেবা চালু করতে বিটিআরসিতে আবেদন করেছে রবি।