দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য খাতের কোম্পানি মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (MEGHNAPET) পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি কোম্পানিটির পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। তারই অংশ হিসেবে কোম্পানিটিতে চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে।
বিএসইসি কোম্পানিটিতে নতুন করে যে চারজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে তাঁরা হলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব অমলেন্দু মুখার্জি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ মাশরিক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং এমএনএ অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নুরুল আলম।
২০০১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (MEGHNAPET) শেয়ারবাজারে দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে জেড শ্রেণিভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম ও বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে নতুন করে চারজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে কোম্পানিটি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। নতুন নিয়োগ দেওয়া পরিচালকদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।
উল্লেখ্য কোম্পানিটি সর্বশেষ গত ৩১,ডিসেম্বর,২০২৩ চলতি ২০২৩–২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) ৬ মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে (০.১১)টাকা ,যা আগের বছরের একই সময়ে ৬ মাসে যার পরিমাণ ছিল (০.১২) টাকা।কোম্পানিটির নেট দায় (৫.২৬) টাকা।
গতকাল (২০ ফেব্রুয়ারী) লোকসানি এই কোম্পানিটির শেয়ারের বাজারমূল্য ক্লোজিং দাম ছিল ৩৫.৪০ টাকা।
মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (MEGHNAPET) বিরুদ্ধে গত বছর আর্থিক অনিয়ম খুঁজে পায় বিএসইসি।সংস্থাটির গঠিত এক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। এ জন্য কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) পাঁচ পরিচালককে সাড়ে তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছিল বিএসইসি।
বিএসইসির তদন্ত কমিটি গত বছর সরেজমিনে কোম্পানিটির কারখানা ও কার্যালয় পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা এবং ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নানা ধরনের অনিয়ম ও অসংগতি খুঁজে পায়। এ জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া ও এমডি এম এফ কামালকে ১ কোটি টাকা করে ২ কোটি টাকা এবং পরিচালক কবির আহমেদ, আবু তাহের ও ওয়ালিউল্লাহকে ৫০ লাখ করে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দেড় যুগ ধরে কোম্পানিটি বন্ধ থাকলেও আইন অনুযায়ী মূল্যসংবেদশীল এ তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানায়নি।
বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোম্পানিটি তাদের আর্থিক প্রতিবেদনেযন্ত্রপাতি ও জায়গাজমি মিলিয়ে মোট ৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদমূল্য দেখিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিটি বন্ধ থাকায় এ সম্পদমূল্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ক্ষতিজনিত সম্পদমূল্যায়নের দরকার ছিল। কিন্তু কোম্পানিটি এ ধরনের কোনো মূল্যায়ন করেনি। ফলে সম্পদমূল্য আদৌ কত, সেই সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেই। আবার কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে গুদামে সোয়া দুই কোটি টাকার পণ্য মজুতের তথ্য উল্লেখ করেছে। কিন্তু বিএসইসির তদন্ত দল কোম্পানিটিতে কোনো পণ্যের মজুত খুঁজে পায়নি। এমনকি পণ্য মজুত সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদনও তদন্ত কমিটিকে দেখাতে পারেনি কোম্পানটি।
এ ছাড়া মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রায় দুই কোটি টাকা ঋণ ও অগ্রিম হিসেবে দেখিয়েছে। বছরের পর বছর এ ঋণ ওঅগ্রিমের তথ্য কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে দেখিয়ে আসছে। বিএসইসির তদন্ত দল এঋণ ও অগ্রিমের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
২০০১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (MEGHNAPET) কিভাবে ২০০৪ সাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ। এই কোম্পানিটির সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল ই প্রতারণা করার জন্যে।এরকম বহু প্রতারক কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত আছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিৎ এই প্রতারকদের শাস্তির আওতাধীন করা যাতে ভবিষ্যতে আর কোন কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ইচ্ছা করে প্রতারণা না করে।