প্রথম পর্বের পর, শেষ পর্বঃ
প্রতিবার বাজার পতনে সবচেয়ে বেশি সমস্যাতে পরে এবং অন্যদের সমস্যায় ফেলে এই মার্জিন লোণ এডজাস্ট। কর্তৃপক্ষের উচিত সব হাউজ লোণ কিভাবে কোন শর্তে দেয় সেগুলি তদারকি করা। আমরা অনেকেই মার্জিন লোণ নিয়ে শেয়ার বাজারে ব্যবসা করি। মার্জিন লোণ নেওয়ার আগে অনেক কিছু হিসাব করা উচিত, যা আমরা করিনা। ফলশ্রুতিতে আমরা অনেক পুঁজিসহ লস করি।
দুঃখজনক হলেও সত্য মুষ্টিমেয় কিছু লোক লাভবান হয় মার্জিন লোণ নিয়ে। মার্জিন লোণে মূলত ব্রোকার হাউসগুলো ভালো কমিশন পায় ও তাদের মোট লেনদেন বাড়ে। এই কারণেই তারা মানুষকে লোন নিতে উৎসাহিত করে। বেশির ভাগ লোকই মার্জিন লোণ নেয় অনেক আশা নিয়ে। পরিশেষে তাদের ফিরতে হয় নিঃস্ব হয়ে। আসলে বাংলাদেশের যে শেয়ার বাজার এখানে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ সুদ দিয়ে, তারপর বাজার থেকে লাভ তোলা কঠিন থেকে কঠিনতর বিষয়।
আসলে লোন নিয়ে ব্যবসা করার অবস্থা আমাদের বাজারে নেই। যদি হত তাহলে, আপনাকে লোন না দিয়া ইন্সটিটিউটগুলি নিজেরাই ব্যবসা করত। আমজনতাকে ১৪/১৮ শতাংশ সুদে টাকা ধার দিত না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাজার যখন ভালো থাকে মোট লেনদেন বাড়ে ঠিক তখন ইন্সটিটিউট গুলি মার্জিন লোন দেয় ও উৎসাহিত করে। আবার বিনিয়োগকারীগন তখনই লোন নিতে উৎসাহিত হয়। কিন্তু বাজার যখন নেতিবাচক হয় তখন ইন্সটিটিউট গুলি লোন তো দেয়ই বরং লোন এডজাস্টের চাপ মাধ্যমে ফোর্স সেল করে দেয়। বাজার যখন নেতিবাচক হয়, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় লোনের এডজাস্ট এর কারণে বাজার ও বিনিয়োগকারীরা ।
যারা মার্জিন লোন নেন তাদের জন্যে কিছু কথাঃ
একে বারেই যারা নতুন বিনিয়োগকারী তারা মার্জিন লোণ পরিহার করুন। মার্জিন লোন একটা ফাঁদ। নিজের মূলধন নিয়ে লেনদেন করুন। অভিজ্ঞতা না থাকলে লোণকে এড়িয়ে চলুন। তবে হ্যা আপনি যদি দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হন, শুধু মাত্র তাহলেই মার্জিন লোন নিন, তাও কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায় দেশের প্রেক্ষাপটে।
যদিও নেতিবাচক বাজারে মার্জিন লোণে ঝুঁকি তুলনামুলক কম থাকে, কিন্তু তখন কোন ইন্সটিটিউট আপনাকে লোণ দিবেনা। বাড়তি বাজারে মার্জিন লোণ মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে নতুনদের জন্য। কিন্তু তখনই আপনাকে লোণ দিতে ও নিতে উৎসাহী করবে ইন্সটিটিউটগুলি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে যে কোন লোণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ, অথচ মার্জিন লোনের সুদের হার ১৪-১৮ শতাংশ। এই বিষয়টি থেকে বিচার করলে বাংলাদেশে মার্জিন লোনের সুদের হার আসলেই খুব বেশি। যেকোন ঋণের ব্যবস্থাপনার চেয়ে মার্জিন লোণের ব্যবস্থাপনা, প্রদান ও গ্রহন সহজ। সরকারের উচিৎ দেশের মধ্যে এই লোণ সুদ শতাংশ বৈষম্য দূর করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়তা করা।
পরিশেষে একটি কথা বলব বাংলাদেশের পুঁজিবাজার পতনের সময় সুনামি গতিতে পতনের জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী মার্জিন লোণে ও তার অব্যবস্থাপনা। তাই এটিকে কিভাবে সংস্কার করা যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী।