অর্থ লিপি

১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

শীতে জুতা মোজা পরলে পায়ে গন্ধ হয়! কারণ ও করণীয়

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

শীতের সময় কিছু কিছু মানুষ গোসল সহ পানি বাহ্যিক ব্যাবহার এড়িয়ে চলতে পারেলেই বাঁচেন যেন। কিন্তু শীতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর অতি জরুরী। তা না হলে নিজেকে পরতে হয় অনেক বিড়ম্বনায় ও আশেপাশের মানুষকে বিলিয়ে দেয় বিড়ম্বনা।

শীতের সময়ের এক বিড়ম্বনা ছড়ান অনেকে, কিছু মানুষ আছেন যারা জুতা খুললেই ছড়িয়ে পড়ছে বাজে এক ধরনের গন্ধ! ‘গ্রীষ্মে পা ঘেমে যায় তাই দুর্গন্ধ বেশি হয়’, সাধারণত এমন ধারণাই করা হয়। তবে, শীতেও পায়ে দুর্গন্ধ হয়।

নিউইয়র্কের পা ও আঙ্গুল রোগ বিশেষজ্ঞ রবার্ট কর্নফেল্ডের ভাষ্যমতে, ‘গ্রীষ্মে আমাদের পা পর্যাপ্ত রোদ পায়। কিন্তু শীতে ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষা পেতে মোটা মোজা ও ভারী জুতা পরার কারণে পায়ে বাতাস চলাচল হয় কম। ফলে ব্যাকটেরিয়াও বেশি হয়। আর সেখান থেকেই হতে পারে দুর্গন্ধ।’

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পায়ের দুর্গন্ধজনিত রোগের নাম ‘হাইপারহাইড্রোসিস’। শীতকালে এ সমস্যা বেশি হতে পারে। পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার বিষয়টি অনেক সময় অসুখজনিতও। আবার অতিরিক্ত ঘামও পায়ে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ। এজন্য যাদের পায়ে দুর্গন্ধ হয়, চিকিৎসার জন্য শুরুতেই তাদের ইতিহাস জেনে নিতে হয়।’

পায়ের দুর্গন্ধের জন্য মূলত ‘ব্যাকটেরিয়া’ দায়ী। কানাডিয়ান জার্নাল অব মাইক্রোবায়োলজির ২০০৬ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, ত্বকের স্টেফাইলোকক্কাস ঘামের সঙ্গে মিশে আইসোভালিক এসিড তৈরি করে, যা দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। এতে আরও দেখা যায়, ‘ব্যাসিলাস সাবটিলিস’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, যার অবস্থান আমাদের ত্বকেই; সেটি পোশাকের উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করে। যে মোজাগুলোর ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে না, সেগুলোই মূলত পায়ের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।

আটলান্টার পা ও নখ বিশেষজ্ঞ রনড্রিক উইলিয়ামসন বলেন, ‘অনেকেই পায়ে দুর্গন্ধজনিত সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। তাদের জন্য পরামর্শ থাকে পলিস্টার বা নাইলনের মোজার বদলে সুতির মোজা ব্যবহার করার।’

পায়ের দুর্গন্ধ রোধে করণীয়

পায়ের দুর্গন্ধ এড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে সেগুলো হলো—

১। মোজায় অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল পাউডার লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

২। পায়ে ড্রাই লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩। বাসায় ফিরে পা থেকে জুতা খুলে পায়ে পর্যাপ্ত বাতাস লাগাতে হবে। জুতাগুলোও এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেন জুতার ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

৪। নাইলনের মোজার পরিবর্তে সুতির মোজা ব্যবহার করা এবং সবসময় পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করা।

৫। ত্বকের মরা কোষগুলো অপসারণ করা আবশ্যক। এজন্য বেকিং সোডা ও ভিনেগার-যুক্ত কুসুম গরম পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের পাতার মরা কোষগুলো নরম হয়ে আসবে। তারপর স্ক্র্যাবার দিয়ে ঘষে  পা পরিষ্কার করে নিতে হবে।

৬। জুতা ব্যবহারের পর রোদে শুকিয়ে নিন। জুতার ভেতরে ট্যালকম পাউডার, বোরিক এসিড বা দুর্গন্ধ-নাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, জুতা পরিষ্কার রাখলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না।

৭। এক মোজা একবার ব্যাবহার করে ভালো ভাবে ধুয়ে নেয়া ও জুতা পরিস্কার রাখা।

পায়ের দুর্গন্ধ রোধে প্রাথমিক অবস্থায় এগুলো করা যেতে পারে। কিন্তু, এগুলো করার পরও যদি সমাধান পাওয়া না যায়, তাহলে দেরি না করে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ, এ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

Author

  • 'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।