দেশের বেসরকারি খাতের সাতটি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে টেকসই রেটিংয়ের ভালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে এই উদ্যোগ নিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, এইবছরের তালিকাটি করা হয়েছে ২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ যে টেকসই ব্যাংকের নাম প্রকাশ করেছে, সেখানে ক্রমতালিকা সাজানো হয়েছে আদ্যক্ষরের ভিত্তিতে। ফলে মানের দিক থেকে কোন ব্যাংক এগিয়ে আছে তা এখনো জানা যায়নি।
সদ্য প্রকাশিত টেকসই ১০ ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী এসএমই ফাইন্যান্সিং কোম্পানি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড।
টেকসই অর্থায়ন সূচক, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন, টেকসই কোর ব্যাংকিং সূচক ও ব্যাংকিং সেবার পরিধি। মূলত উপরোল্লিখিত পাঁচটি সূচকেরওপর ভিত্তি করে এই মান যাচাই করা হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ বান্ধব প্রকল্পে ঋণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমসহ নানা কার্যক্রম চালিয়েআসছে। অনেক ব্যাংকে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। গাছ কাটা কমাতে কমিয়ে আনছে কাগজের ব্যবহার। পাশাপাশি অফিসগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, টেকসই কোর ব্যাংকিং সূচকের মধ্যে ব্যাংকগুলোর ঋণের মান, মূলধন পরিস্থিতি, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ কারণে নতুন অনেক ব্যাংক যুক্ত হচ্ছে, অনেক গুলো বাদ পড়েছে।
তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি ব্যাংকের পুরো আর্থিক চিত্র প্রকাশ পায়নি। ফলে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেরা, এর মাধ্যমে তা বলা যাবে না।
২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে সাসটেইনেবল রেটিংয়ে তালিকায় সবচেয়ে ভালো করেছিল ১০ ব্যাংক ও ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এই বছরের তালিকায় গত বছরের ১০ টি ব্যাংকের মধ্যে ব্রাক ব্যাংক বাদে অন্য কোন ব্যাংক স্থান পায়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এইবার ও একমাত্র আইডিএলসি রয়েছে।