দেশের শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজন না হলেও নিজেদের উন্নয়নে ও শুধু মাত্র শর্ত ফিলাপের জন্যে আইপিওর মাধ্যমে সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটে লেনদেনে আসছে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড।
ব্যাংকটি বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ টাকা সরকারি বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে। চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোকে অনুমোদনের সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। সেই শর্ত পূরণেই ব্যাংকটি শেয়ার বাজারে আসছে।
আইপিও অনুমোদনের তথ্যে বিএসইসি জানিয়েছে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি ২০২৩ সালে বছরের প্রথম ৯ মাস জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া প্রকৃত সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২.৭২ টাকা। আর প্রতিটি শেয়ারে আয় বা ইপিএস ২৭ পয়সা। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিএসইসি শর্তও দিয়েছে ব্যাংকটিকে। সেই শর্ত অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে কোন লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন ও বিতরণ করতে পারবে না।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোকে অনুমোদনের সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। সেই শর্ত পূরণেই ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে আসছে। শুধু শর্ত পূরণের দায় সারতে এসে বিপদে ফেলছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
সম্প্রতি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক তালিকাভুক্ত হয়েই ফেসভ্যালুর নিচে চলে গিয়েছে, যা বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্লোরের নিচে ছিল।
উল্লেখ্য, তালিকাভুক্ত ৩৫ টি ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে ৫ টি ব্যাংক ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করছে এবং আর ৯ টি ব্যাংক ১০/১২ টাকার মধ্যে দাম। তালিকাভুক্ত ব্যাংক সেক্টরের বেশির ভাগের আর্থিক অবস্থা ভালো না, তাছাড়া শেয়ার বাজারের এই নাজুক অবস্থায় আরও একটি ব্যাংক তালিকাভুক্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের কোন উপকারে আসবেনা।

নীতিনির্ধারকদের উচিৎ যোগ্যতা না থাকলেও শুধু মাত্র শর্ত ফিলাপের জন্যে শেয়ার বাজারে মানহীন কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে না দেয়া। দেশের দুটি বৃহত্তম বিদেশি ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো ভালো মানের ব্যাংক যাতে বাজারে আনা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া উচিৎ ।
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোকে অনুমোদনের সময় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়। তেমনি ভাবে বিদেশি ব্যাংকগুলিকে শর্ত দেয়া হোক দেশে ব্যবসা করতে হলে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে ই হবে।অন্যান্য দেশে বিদেশি কোম্পানিগুলি ব্যবসা করার প্রধান শর্ত থাকে সেই দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হবার, কিন্তু আমাদের দেশে এই বাধ্যবাধকতার মধ্যে কেন কোম্পানিগুলিকে আনা হয়না এই প্রশ্ন আপামর বিনিয়োগকারীদের।