বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বন্ধ হয়ে যাওয়া তিন এয়ারলাইনসের ১২টি উড়োজাহাজ আবারও নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে।
খুব শিগগিরই এই উড়োজাহাজগুলো নিলামের দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছে আকাশপথের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি তিন এয়ারলাইনস ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও জিএমজি এয়ারের কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাবে বেবিচক। সংস্থাটি বলছে, এই উড়োজাহাজগুলো নিলাম করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়ে বেবিচকের দেনা শোধ করা হবে।
পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেডের আছে ৯টি, রিজেন্ট এয়ারের ২টি আর জিএমজি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ আছে ১টি। এর মধ্যে বেবিচকের কাছে ইউনাইটেডের বকেয়া ৩৮৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, রিজেন্টের কাছে ৪০৮ কোটি ৭ লাখ, আর জিএমজি এয়ারের কাছে বেবিচক পাবে ৩৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২১ সালে একবার এই উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি নানা জটিলতায় আর এগোয়নি সে উদ্যোগ। বেবিচক বলছে, উড়োজাহাজগুলো নিলামে তুলতে যে আইনি বাধা ছিল, তা আর নেই।
দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে প্রথম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ব্যবসা শুরু করে ২০০৭ সালে। কিন্তু ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার সময় এয়ারলাইনসের বহরে মোট ১০টি উড়োজাহাজ ছিল। এর মধ্যে নয়টি বর্তমানে শাহজালালে, আরেকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে ভারতের একটি বিমানবন্দরে।
প্রায় ২ বছর আগে এয়ারলাইনসটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে এটিকে চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিসিইসি)। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহজালালে থাকা পরিত্যক্ত ৯টি উড়োজাহাজের কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন করে।
সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, উড়োজাহাজগুলো ওড়ার উপযোগী করা হলে এগুলো দিয়ে ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহন লাভজনক হবে না। তবে পণ্য পরিবহনে উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করা যাবে।
উড়োজাহাজ নিলামের বিষয়ে ইউনাইটেড এয়ারের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো ‘মন্তব্য নেই’ বলে জানানো হয়েছে।
তবে এয়ারলাইনসটির সঙ্গে সম্পর্কিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইউনাইটেডের চারটি উড়োজাহাজ ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। ব্যাংক ২২৫ কোটি টাকা পাবে। সে ক্ষেত্রে উড়োজাহাজগুলো নিলামে তোলা হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদি বেবিচক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তাহলে হয়তো নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না।’
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।