পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বৈধ পথে প্রবাসী আয় এসেছে ১২৭ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এপ্রিলের প্রথম ২১ দিনে এই অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম তিন সপ্তাহে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংক ৩ কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ৪২ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এনেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বৈধ পথে ২০১ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার বেশি। ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ১৫৬ কোটি ১২ লাখ ডলার। সেটি আবার জানুয়ারি মাসের তুলনায় ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল। জানুয়ারিতে প্রায় ১৯৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে বেশি পরিমাণে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরপরও ব্যাংকের মাধ্যমে আশানুরূপ হারে তা বাড়ছে না। এক মাসে বাড়ছে তো আরেক মাসে কমছে। এ বছরে জানুয়ারিতে প্রবাসী আয়ে কিছুটা গতি এলেও ফেব্রুয়ারিতে কমে যায়। পরের মাসেই অর্থাৎ মার্চে আবার ভালো অবস্থা দেখা গেছে। চলতি এপ্রিলে এসেছে ১২৭ কোটি ডলার। ব্যাংকাররা মনে করেন, ঈদ শেষ হওয়ায় মাসের বাকি ৯ দিনে খুব বেশি প্রবাসী আয় আসার সম্ভাবনা কম। তবু এপ্রিলে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে, তা জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
প্রবাসী আয় ব্যাংকের মাধ্যমে আনার জন্য সরকার প্রণোদনার হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এখন আড়াই শতাংশ করে দিচ্ছে। এরপরও প্রবাসী আয়ে গতি কম। বৈশাখ ও দুই ঈদের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার প্রবাসী আর বেশি আসবে বলে ধারণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু দেশে ডলার–সংকটের পরিস্থিতিতেও তা হয়নি।
তবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুটা বেশ ভালো হয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা ২০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় পাঠান। পরের মাস আগস্টেও একই ধারা বজায় ছিল। এরপর এ বছরের মার্চ মাসে এসে প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করে। এ মাসে এসেছে ২০১ কোটি ডলার।