ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় যারা ক্রেডিট কার্ডের বিল, ঋণের বকেয়া ও বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি সময়মত পরিশোধ করতে পারেননি, তাদের কাছ থেকে কোনো জরিমানা নেবে না ব্যাংকগুলো। এছাড়া ঋণ পরিশোধে বিলম্ব হলেও জরিমানা গুণতে হবে না। এমনকি নির্ধারিত সময়ে বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় অতিরিক্ত সুদ আরোপ করবে না ব্যাংকগুলো।
জানা গেছে গতকাল মঙ্গলবার স্টান্ডার্ড চার্ডার্ড ব্যাংক,ব্র্যাক ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের বিলম্ব ফি পরিশোধে জরিমানা দিতে হবে না ,এ বিষয়ে একটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারেননি অনেক গ্রাহক। এতে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না। আমাদের সব গ্রাহকই এই সুবিধা পাবেন। যেহেতু সরকার কর্তৃক সিদ্ধান্ত হয়েছে বন্ধ থাকবে তাই এই সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে কোনো গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না। এটা আমাদের (ব্যাংকগুলোর) নিজেদের সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সার্কুলার ইস্যু করে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চার্জ আরোপ হবে না তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে যাঁরা ক্রেডিট কার্ডের বিল, ঋণের বকেয়া ও বিভিন্ন সঞ্চয়ী স্কিমের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি, বাড়তি সুদ ছাড়াই তাঁদের অর্থ পরিশোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কারফিউ ও সাধারণ ছুটির সময়ে যাঁদের ঋণের বকেয়া, ক্রেডিট কার্ডের বিল ও সঞ্চয়ী আমানতের কিস্তি দেওয়ার সময় ছিল, তাঁরা ৩১ জুলাই পর্যন্ত তা জমা দিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ১৮-২৫ জুলাই সময়ে প্রদেয় কিস্তির জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ধরনের বাড়তি সুদ, জরিমানা, বিলম্ব মাশুল আদায় করতে পারবে না। এই সময়ে কিস্তির টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কোন সঞ্চয় স্কিম বাতিলও করা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে যেসব গ্রাহক এই সময়ে ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিল বা কিস্তির অর্থ জমা দিতে পারেননি, তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না। টাকা জমা দিতে এখন তাঁরা বাড়তি সময় পাচ্ছেন।