প্রথম দিন ৩৫ ওভার খেলা হলেও পরের দুই দিন কোনো বলই গড়ায়নি কানপুরের গ্রিন পার্কে। সেই টেস্টের পঞ্চম দিনে রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে। প্রায় আড়াই দিন বৃষ্টিতে নষ্ট হলেও রেজাল্ট হতে পারে পঞ্চম দিনে। সম্ভাব্য ড্রর পথে এগোতে থাকা কানপুর টেস্টকে প্রায় টি ২০ ম্যাচ বানিয়ে ভারত এখন দুর্দান্ত এক জয়ের আশাও জাগিয়েছে। এমন টেস্ট ম্যাচ দর্শক দেখেনি বহুবছর।
মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্নক ব্যাটিংয়ে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছে ভারত। ৫২ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের ২৩৩ রানের জবাবে ভারত ব্যাট করতে নেমে আজ মাত্র ৩ ওভারে ৫০ ছাড়িয়েছে, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্রুততম। দলের রান ১০০ ছাড়াতে ভারতের লেগেছে ১০.১ ওভার, সেটাও ছিল টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম দলীয় ১০০ রান। এরপর গড়েছে দ্রুততম দলীয় ১৫০, ২০০, ২৫০ রানের রেকর্ডও। মাত্র ৩৪.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮৫ রান করেছে রোহিত শর্মার দল। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি রান রেটের দলীয় ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে ২৬ রান সংগ্রহ করে চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ২৬ রানে পিছিয়ে আছে টাইগাররা।
আজ ৫২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এই ইনিংসেও ওপেনার জাকির হাসান ব্যর্থ হন, দলীয় ১৮ রানে ১৫ বলে ১০ রান করে আউট হন এই টাইগার ওপেনার।
জাকিরের বিদায়ের পর নাইট ওয়াচ ম্যাচ হিসেবে ক্রিজে আসেন হাসান মাহমুদ। তবে দ্রুতই সাজঘরে ফিরে যান তিনি। দলীয় ২৬ রানে ৯ বলে ৪ রান করে আউট হন হাসান।
শেষ পর্যন্ত ১১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৬ রান সংগ্রহ করে চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সাদমান ৪০ বলে ৭ রানে অপরাজিত আছেন। ভারতের পক্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন নিয়েছেন ২টি উইকেট।
এর আগে ২৩৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্নক ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুল।
জয়সওয়াল ৫২ বলে ৭১ ও রাহুল ৪৩ বলে ৬৮ রান করেন। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৪টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৩৩।
ভারত প্রথম ইনিংস: ২৮৫/৯ ডিক্লেয়ার।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ১১ ওভারে ২৬/২ (জাকির ১০, সাদমান ৭*, হাসান ৪, মুমিনুল ০*; অশ্বিন ২/১৪, আকাশ ০/৪, বুমরা ০/৩)।—চতুর্থ দিন শেষে।