দেশের শেয়ারবাজারের টানা দরপতনের প্রতিবাদে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের অপসারণের দাবি করেছেন শেয়ারবাজারের বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।
সে জন্য তাঁরা ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা কফিন মিছিল ও গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন।
রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে গতকাল রবিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে এ বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা শেয়ারবাজারের পতনের জন্য বিএসইসির ব্যর্থতাকে দায়ী করে কমিশনের অপসারণের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। প্রায় ৩০ মিনিট বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ চলে। এ সময় একটি কফিন এনে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিলও বের করেন।
মিছিলটি মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে ইত্তেফাক মোড় ঘুরে মতিঝিলের পুরাতন ডিএসই ভবনের সামনে শেষ হয়। এ সময় ডিএসই পুরাতন ভবনের সামনে রাস্তায় বসে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ফলে ডিএসই ভবনের সামনের রাস্তায় ৩০ মিনিটের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল।
মিছিল শেষে বিকেল পৌনে চারটায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নামাঙ্কিত কফিন নিয়ে প্রতীকী গায়েবানা জানাজা আদায় করেন বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভকালে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজার আজ বন্দী হয়েছে এক নব্য স্বৈরাচারের আয়না ঘরে। ’এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি এই সরকার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
ইকবাল হোসেন আরও বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হলে দাবি আদায়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে উপস্থিত হবেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের অপসারণের দাবি করেছেন শেয়ারবাজারের বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা। সে জন্য তাঁরা গতকাল ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন তাকে। তিনি যেন সেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান।
এই বিষয়টি শেয়ার নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ একজন বাজার বিশ্লেষকের সাথে আলাপ করলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের ঢাকা শেয়ার বাজার অনলাইন পোর্টালকে জানান রাসেদ মাকসুদ সাহেব আসার পরে শেয়ার বাজারের দুর্নীতিবাজদের শাস্তির আওতাধীন করেছেন, এটা বাজারের জন্যে বেশ ভাল খবর ছিল। তবে তিনি এই শাস্তিগুলো ধাপে ধাপে দিলে বাজারের এই অচল অবস্থা হতো না।
তিনি জানান দেশের শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানকে নিয়ে যদি এভাবে কফিন মিছিল হয় তাহলে সারাবিশ্বে দেশের শেয়ার বাজার নিয়ে একটা ভুল ম্যাসেস চলে যাচ্ছে। যে কোন উপায় এই ইস্যুটির সমাধান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানকে নিয়ে বিনিয়োগকারী ছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের লোকদের বিদ্রোহের ঘটনা ও ঘটেছে, তাই সরকারের উচিত খুব দ্রুত সংস্থার প্রধানকে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া। কেননা যখন কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে ভিতর ও বাহিরে এমন আন্দোলন হলে সেই ব্যক্তি যত ভালো কাজই করুক তা শেয়ার বাজারের জন্যে ভালো হবেনা।