সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের মহা আতঙ্কের নাম কোলেস্টেরল। কোলেস্টেরল নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক লেখার (কোলেস্টেরলের ভাল–মন্দ এর (শেষ পর্ব) আজ শেষ পর্ব। আশা করছি আপনারা পুরো ৯ পর্ব পড়লে কোলেস্টেরল নিয়ে আতংক কমে যাবে।
কোলেস্টেরল সমস্যার স্থায়ী সমাধান :
কোলেস্টেরল সুস্থ জীবনের অপরিহার্য উপাদান। সমস্যা হয় তখনই যখন কোলেস্টেরল রেশিও বেড়ে যায় কিম্বা কোলেস্টেরল অক্সিডাইজ হয়ে যায়। তা প্রতিরোধ করতে নিম্নেরপদ্ধতি অনুসরণ করুন। মাত্র ২–৩ মাস পরে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করে দেখুন – কী ব্যাপক উন্নতি!

খাদ্যাভ্যাসঃ
চিনি, মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, জুস পরিহার করুণ। ইন্ডাস্ট্রিয়াল তেল (সয়াবিন, রাইসবার্ন, ক্যানোলা, পাম, সানফ্লাওয়ার, ট্রান্স ফ্যাট) ত্যাগ করুণ। ফ্রাইড ফুড পরিহার করুন, যেমন চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, ভাজাপোড়া, সিঙ্গারা, সমুচা। প্রসেসড ফুড, বেকারি প্রোডাক্ট, ফাস্ট ফুড পরিহার করুন। স্টার্চি কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ/সীমিতকরণ করুন (ভাত, রুটি, গোল আলু, ভুট্টা)।
প্রচুর পরিমানে শাকসবজী ও ফলমূল খেতে হবে। উন্নত মানের প্রোটিন (মাছ, মুরগী, ডিম) খেতে হবে। ভাল ফ্যাট (অলিভ অয়েল, বাদাম, তৈলাক্ত মাছ) খেতে হবে।
কার্ডিও এক্সারসাইজঃ
সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০–৬০ মিনিট কার্ডিও এক্সারসাইজ করতে হবে।
কার্ডিও এক্সারসাইজঃ
ওয়াকিং, জগিং, রানিং, সাইক্লিং, সুইমিং,হাইকিং।
ওজন নিয়ন্ত্রণঃ
BMI ২৫ এর নিচে রাখতে হবে। কেবলমাত্র রিয়্যাল ফুড খেতে হবে। মাঝেমধ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে হবে।
কু–অভ্যাস ত্যাগঃ
ধুমপান, মদ্যপান, রাতজাগা ত্যাগ করতে হবে।
লিভার ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যঃ
কেমিক্যাল ড্রাগস পরিহার/নিয়ন্ত্রণ,এন্টিবায়োটিক নিয়ন্ত্রণ, টক্সিন প্রতিরোধ করুন। কীটনাশক ও প্রিজার্ভেটিভ মিশ্রিত খাবার এড়িয়ে চলুন। এলকোহল পরিহার করুন ,ফাইবার ও প্রোবায়োটিক গ্রহণ।
স্ট্রেস কন্ট্রোলঃ
নেগেটিভ মানুষ ও মানসিকতা পরিহার করুন। উচ্চ বিলাসী আকাঙ্খা ত্যাগ করুন। যোগব্যায়াম, ব্রেথিং এক্সারসাইজ, মেডিটেশন, মিউজিক, মেসেজ, প্রার্থনা এগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন।
নিয়ম মেনে চলুন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ড্রাগস মুক্ত সুস্থ জীবন গড়ুন।
লিখেছেন
ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম
সবগুলি পর্ব পড়ে আপনি অনেক তথ্য জেনেছেন। কোন মতপার্থক্য থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।