বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমান গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত মোস্তাকুর রহমান বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
গভর্নর পরিবর্তন
ব্যাংক খাতের সংস্কারের ভবিষ্যৎ কী? বিষয়টি নিয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন–এর সঙ্গে কথা আলাপকালে তিনি ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতা ও সংস্কারের সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা মত দেন।
ড. খাতুন বলেন, শুধু গভর্নর পরিবর্তন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। টেকসই সংস্কারের জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। তার মতে, ব্যাংক খাতে যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমেছে, সেগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সমাধানও সময়সাপেক্ষ।
তিনি বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দেন—
১। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ
খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে আস্থা ফেরানো কঠিন হবে।
২। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা
নীতিনির্ধারণে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে দিতে হবে।
৩। ব্যাংকিং সুশাসন
পরিচালনা পর্ষদে জবাবদিহিতা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি আরও কার্যকর হতে হবে।
৪। বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা
আমানতকারীদের আস্থা ছাড়া ব্যাংকিং খাত টেকসই হতে পারে না। এজন্য নীতি ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।
ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, এখন সময় “সংকট ব্যবস্থাপনা” নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারের। গভর্নর পরিবর্তন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নিতে হবে।
সব মিলিয়ে বার্তাটি পরিষ্কার—ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, ব্যবস্থার পরিবর্তনই আসল চ্যালেঞ্জ।