দেশে বিনিয়োগের জন্য শিল্পে গ্যাস সংযোগ পাওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ডিজিএম প্রকৌশলী স্বাগতম কুমার সাহা। তিনি বলেছেন, গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সরবরাহ সংকট রয়েছে।
পেট্রোবাংলা সংকট দূর করতে এলএনজি আমদানি ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চেষ্টা করছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস সংযোগ দেওয়া শুরু করা সম্ভব হবে। অপরদিকে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) সেক্রেটারি জেনারেল আল মামুন মৃধা বলেছেন, চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান রিজার্ভ ক্রাইসিস মোকাবিলা করা সহজ হবে।
গতকাল শনিবার (৯ই সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) আয়োজিত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন উইথ চাইনিজ ইনভেস্টরস: চ্যালেঞ্জেস, এক্সপেকটেশনস অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানান তারা।
সেমিনারে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ডিরেক্টর জেনারেল শাহ মোহম্মদ মাহবুব। তিনি বলেন, কোনও একটি দেশে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক ও পলিটিক্যাল স্থিতিশীলতা, ট্যাক্স অব্যাহতি সুবিধা ও অন্যান্য ইস্যু, যার সবকিছু বাংলাদেশে রয়েছে। ২০৪০ সালে উন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ৬০৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়ো জন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগের ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ রিইনভেস্টমেন্ট। অর্থাৎ, এখানে যেসব বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন, তারা মুনাফা করায় আবার পুনঃবিনিয়োগ করছেন। জেট্রো’র স্টাডির কথা তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় এবছর প্রফিটিবিলিটি ফোরকাস্ট, বিজনেস কনফিডেন্স ফোরকাস্ট বেড়েছে এবং লস মেকিং ফোরকাস্ট কমেছে।
সেমিনারে জানানো হয়, দ্য ফিউচার অব চাইনিজ ইনভেস্টরস নামক রিপোর্টে দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, যেসব দেশে রিস্ক কম এবং সুবিধা বেশি, এসব দেশের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে চাইনিজ ইনভেস্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫২তম, যা এবছর ১২তম।
‘এতেই প্রমাণিত হয়, চাইনিজ ইনভেস্টররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে এক ডলার বিনিয়োগ করলে ১৬ ডলার রিটার্ন পাওয়া যায়’- জানান শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।
রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সবিশন সেন্টারে আয়োজিত এই সেমিনারে বিসিসিসিআই এবং চায়না এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিইএবি) সদস্যরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বিডা’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশে এগ্রো প্রসেসিং অ্যান্ড মেশিনারি, তৈরি পোশাক শিল্পের হাই- অ্যান্ড প্রোডাক্ট, রিসাইক্লিং অ্যান্ড সার্কুলার ফ্যাশনস, মেন মেইড ফেব্রিক, আইটি, হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস, অটোমোবাইল অ্যান্ড পার্টস, ব্লু ইকোনমি, হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম এবং চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ করতে চাইনিজ উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী সদস্য অভিজিত চৌধুরী বলেন, আমরা জানি, বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করার পর জমি কেনা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়াসহ ট্যাক্স, কাস্টমসে উদ্যোক্তাদের অনেক সমস্যা হতে পারে। সেসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা আফটার কেয়ার সার্ভিস চালু করেছি। ইতোমধ্যে আফটার কেয়ারের মাধ্যমে বিএসআরএম ও লাফার্স সিমেন্টসহ বিভিন্ন কোম্পানির অনেক সমস্যা সমাধান করেছি।
বিসিসিসিআই’র সেক্রেটারি জেনারেল আল মামুন মৃধা বলেন, ২০১৯ সাল পর্যন্ত চীন বাংলাদেশে একক সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী ছিল। কোভিড ও চীনের জিরো কোভিড নীতির কারণে কয়েকবছর চীনা বিনিয়োগ কম এসেছে। তবে এখন অনেক বিনিয়োগ আসছে। চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যমান রিজার্ভ ক্রাইসিস মোকাবিলা করা সহজ হবে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।