অর্থ লিপি.কম

৪ মার্চ ২০২৬ বুধবার ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

চলমান ডলার সংকট ও এলসি বিড়ম্বনা শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “অর্থ লিপি.কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  www.facebook.com/OrthoLipi

চলমান ডলার সংকট ও এলসি বিড়ম্বনাকে এখন শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।তাদের মতে, একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে ভোগ্যপণ্যের বিক্রিও কমছে। আবার বিদেশী রফতানিকারকরাও এখন দেশের আমদানিকারকদের ওপর সময়মতো মূল্য পরিশোধ নিয়ে আস্থা রাখতে পারছেন না। আগে এলসি খোলার বিষয়টি উদ্যোক্তা বা শীর্ষ নির্বাহী পর্যন্ত কখনই যেত না। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তাদেরই এখন ব্যাংকে গিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। এর পরও ব্যাংকগুলো এখন এলসি খুলতে নানা ধরনের শর্ত দিচ্ছে। এমনকি অনেক সময় বাইরে থেকে ডলার সংগ্রহ করে দিতেও বলা হচ্ছে।

অথচ ১/২ বছর আগেও ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুরোধ নিয়ে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে ছুটেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। এমনকি ব্যাংকের এমডিসহ শীর্ষ নির্বাহীদেরও এ নিয়ে উদ্যোক্তাদের কাছে থাকত বিশেষ অনুরোধ।চলমান ডলার সংকট এ চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে । এখন আমদানি চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থান ও এলসি খোলার অনুরোধ নিয়ে ব্যাংক নির্বাহীদের কাছে ছুটে আসতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। ব্যাংকে সফলভাবে এলসি খোলা নিশ্চিত করাটাও এখন আমদানিকারক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমডি-পরিচালকদের অন্যতম প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিযয়মিত আমদানি করত এমন একটি কোম্পানির পরিচালক বলেন, এখন তো ব্যাংকাররা আর আমাদের কাছে আসেন না। বরং আমাদেরই ব্যাংকারদের কাছে ছুটে যেতে হচ্ছে। কারণ আমার যেহেতু চাহিদা আছে, সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। এলসি খুলতে পদক্ষেপ নেয়াটা এখন এমডি-পরিচালকদেরও মুখ্য কাজ হয়ে গেছে। অথচ আগে এ ধরনের বিষয় কখনই পরিচালক পর্যায়ে আসত না। এলসি খোলাটা আসলে চিন্তার বিষয় হওয়ারও কথা না। কিন্তু ডলার সংকটে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা অনেক বাড়ায় চিত্রটা বদলে গেছে। আবার তারাও যে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে না, সেটাও বলব না। আসলে আমার ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে কখনো চিন্তাও করিনি যে এলসি খুলতে এত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এখন বড় আরেকটা সমস্যা হলো বিদেশী রফতানিকারকরা বাংলাদেশীদের সঙ্গে ডিল করতে ভরসা পায় না। নানা ধরনের প্রশ্ন করে যেগুলো আগে কখনো শুনতে হয়নি। আবার এমনও হয়েছে যে আস্থার কারণে রফতানিকারক বিদেশে জাহাজে পণ্য লোড করে দিয়েছে। সে জাহাজ বাংলাদেশে এসে ভেসে আছে কিন্তু এলসি পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও ওদিকে জাহাজের বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে।

টাকার অবমূল্যায়নে রফতানিকারকদের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কথা থাকলেও পরিস্থিতি এখন তাদেরও প্রতিকূলে ফেলে দিয়েছে ডলার সংকটের কারণে ,ডলারের বিনিময় হার ধরে রাখার মতো ভুল নীতির কারণে আমরা রফতানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছি। যদি বিনিময় হার সময়মতো বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেয়া যেত, তাহলে টাকার অবমূল্যায়নে একটা ধাক্কা আসতো ঠিকই কিন্তু এতোদিনে পরিস্থিতি ঠিকই স্বাভাবিক হয়ে আসতো। আবার দাম বেঁধে রাখলেও আমদানিকারকদের ঠিকই অনানুষ্ঠানিকভাবে ডলার ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এলসি খুলতে দেশের বড় মাপের প্রতিষ্ঠিত শিল্পোদ্যোক্তারাও এখন বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক কি সেটা এখনো অনুধাবন করতে পারেনি? উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে আরো যত বেশি দেরি হবে সংকটও ততটাই গভীর হবে।’

দীর্ঘ ব্যবসায়িক ক্যারিয়ারে এখনকার মতো পরিস্থিতি আর কখনই দেখেননি বলে জানালেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।একজন ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বল্লেন ,ডলারের দাম রাতে ঘুমানোর আগে দেখি এক রকম আর ঘুম থেকে উঠে শুনি আরেক রকম। রাতে ঘুমানোর সময় ডলার ১১১ টাকা আর উঠে দেখি ১২৫ টাকা। তাহলে ব্যবসায় এক রাতেই ১৫ শতাংশ নেই।এভাবে হতে থাকলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পরবে।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন নেমে এসেছে ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। ডলারের তীব্র সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো এখন এলসি খুলতে রাজি হলেও তা করছে শর্তসাপেক্ষে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাইরে থেকে ডলার সংগ্রহ করে দেয়ার শর্তও দেয়া হচ্ছে। চাহিদামতো এলসি খুলতে না পেরে এখন শিল্প কাঁচামাল, নিত্যপণ্য ও মূলধনি যন্ত্রপাতির মতো অত্যাবশ্যকীয় আমদানিও কমিয়ে দিয়েছেন অনেক উদ্যোক্তা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ । এ চার মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে মোট ২ হাজার ১৮২ কোটি ডলারের। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময় এলসি খোলা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪৬৬ কোটি ডলারের। এ সময় ব্যাংকগুলোর এলসি নিষ্পত্তিও কমেছে ২৪ শতাংশের বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ব্যাংকগুলো এলসি নিষ্পত্তি করেছিল ২ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলারের। সেখান থেকে কমে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে তা নেমে এসেছে ২ হাজার ১৯৭ কোটি ডলারে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।