মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ইউরোসহ আরও বেশ কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই নীতি সুদহার কমাতে যাচ্ছে, বাজারে এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়ার পর ডলারের বিনিময় হার কমেছে।
বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটি থাকায় বাজারে এখন খুব একটা লেনদেন হচ্ছে না। এ ছাড়া তারল্যসংকটের কারণে ডলারের বিনিময়ে হার খুব কমবে না বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে।
মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিমাপের সূচক হচ্ছে দ্য ডলার ইনডেক্স। এ সূচকে ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের তুলনামূলক পরিমাপ করা হয়। ডলার ইনডেক্স এখন ১০০ দশমিক ৯৮-এ নেমে এসেছে, জুলাই মাসের ২৭ তারিখের পর যা সর্বনিম্ন। এ ক্ষেত্রে কমার হার শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালের শেষে ডলার ইনডেক্সের মান মোট ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে যাবে, যদিও আগের দুই বছর ফেডের নীতি সুদহার বৃদ্ধির জেরে ডলারের বিনিময় হার অনেকটা বেড়েছিল।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় ফেডারেল রিজার্ভ এখন নমনীয়। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল অপ্রত্যাশিতভাবে নমনীয় অবস্থান নেওয়ায় আগামী মার্চ মাসে নীতি সুদহার কমার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সেই বৈঠকে নীতিপ্রণেতারা ২০২৪ সালে নীতি সুদহার ৭৫ ভিত্তি পয়েন্ট কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন।
এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে রাখার পক্ষপাতী। ব্যাংক অব জাপান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নীতি সুদহার ঋণাত্মক পর্যায় থেকে বের করে আনার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যদিও তারা বলেছে যে এ নিয়ে তাদের তাড়া নেই।
ডিআরডব্লিউ ট্রেডিংয়ের বাজার কৌশলবিদ লু ব্রিয়েন বলেছেন, জাপান শেষমেশ অতি নিম্ন সুদহারের জমানা থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বেরিয়ে যাবে এবং সেই সঙ্গে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ফেডের তুলনায় কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক শোনাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফেড নীতি সুদহার কমাতে যাচ্ছে তা ঠিক, কিন্তু কী উদ্দেশ্যে তারা এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লু ব্রিয়েন বলেন, বিষয়টি যদি এমন হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে যে এখন আর অপ্রয়োজনীয়ভাবে মুদ্রা নীতির রাশ টেনে রাখার প্রয়োজন নেই, তাহলে বিষয়টি ভালো। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন হয় যে দুর্বল অর্থনীতিতে গতি আনার জন্য নীতি সুদহার কমানো হচ্ছে, তাহলে অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের জন্য তা ভালো হবে না।
এ বাস্তবতায় ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১ ডলার উঠেছে, যা গত ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। এ বছর ইউরোর দরবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দর শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ২৭ ডলারে উঠেছে; এর আগে যা ১ দশমিক ২৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। অন্যদিকে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ১৪১ দশমিক ৮৯ ইয়েনে নেমে এসেছে; চলতি বছর ইয়েনের দর ৮ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে।
ব্যাংক অব জাপান গতকাল বুধবার জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তারা বন্ড কেনা কমিয়ে দেবে। সম্প্রতি এক বৈঠকে ব্যাংকের নীতিপ্রণেতারা বিদ্যমান মুদ্রানীতি আরও কিছুদিন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা বিপুল প্রণোদনার ভার কমিয়ে অর্থনীতিতে স্বাভাবিক পথে নিয়ে আসার কথা বলেছেন, যদিও তাড়াহুড়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডের ডলারেরও দর বেড়েছে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।