নার্স মানেই এক আকাশ পরিশ্রম ও ধৈর্যের সাগর, সহস্র আত্মত্যাগ এবং এক শক্তি। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সদের নানান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়।
একজন ছেলে এবং মেয়ে এমনি এমনি নার্স হয়ে ওঠে না। তার পেছনে থাকে এক সুবিশাল দীর্ঘ লড়াই এর ইতিহাস। নার্স হতে গেলে দুই থেকে চার বছর এবং তারও বেশি পড়াশোনা করতে হয়। এই পড়াশোনার পাশাপাশি তাদেরকে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসও করতে হয় দীর্ঘ সময় ধরে। যা সত্যিই এক লড়াই। অসীম ধৈর্য নিয়েই এগিয়ে যেতে হয় নার্স হওয়ার পথে।
এই পথে অসংখ্য বাধাও অতিক্রম করতে হয়; তার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন তাও তাদেরকে অর্জন করতে হয়। একজন ছাত্র-ছাত্রীকে নার্স হতে গেলে অসীম ধৈর্য, লড়াই করার শক্তি, সেবা পরায়নমূলক মনোভাব, সহানুভূতিশীল, আত্মত্যাগী এবং ভালো মনের মানুষ হতে হয়। যদিও এই গুণগুলো ধীরে ধীরে তারা অর্জন করে নেয়। একথাও ঠিক যে সবাই আবার পারে না, তাই তো আমি বলে থাকি-‘সবাই নার্সিং পাশ করে, কিন্তু সবাই নার্স হয়ে উঠে না।’ যাইহোক,একজন ছাত্র-ছাত্রী সহস্র লড়াই করেই কিন্তু একজন প্রকৃত নার্স হয়ে উঠে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে যদি একটি মানবশরীর ধরা হয় তাহলে এই শরীরের কিডনি হল ডাক্তার এবং হৃৎপিন্ড হল নার্স। আমাদের শরীরের যেমন বিভিন্ন অঙ্গ রয়েছে ঠিক তেমনি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও বিভিন্ন পেশার মানুষ কাজ করে থাকে। মানব অঙ্গের মতো তাদের মধ্যেও একটা সম্পর্ক কাজ করে থাকে। বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি আমাদের শরীরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল কিডনি এবং হৃৎপিন্ড, যা ব্যাতিত একটি মানবশরীর অসম্পূর্ণ। ঠিক তেমনি একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও ডাক্তার ও নার্স ছাড়া অসম্পূর্ণ। নার্সরা হলেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হৃৎপিন্ড; যা স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে সর্বদা বাঁচিয়ে রাখে।
ডাক্তারদের পাশাপাশি একজন নার্সের দায়িত্বও কিন্তু কম নয়। সাধারণত ডাক্তাররা কেবল রোগী দেখে চলে যান কিন্তু একজন নার্সকে দীর্ঘ সময় ধরে দিবা-রাত্রি রোগীর পাশে থাকতে হয়। রোগীকে সময় মতো ঔষধ দেওয়া, তার যত্ন নেওয়া, খাওয়ার সম্পর্কিত দেখাশোনা করা সহ যাবতীয় বিষয় একজন নার্সকে দেখতে হয়। অর্থাৎ একজন নার্সকে মায়ের ভূমিকা পালন করতে হয়। তাইতো নার্সদেরকে দেবী দুর্গার মতো দশ হাতে দশটি গুণ রাখতে হয়।
নার্সরা কখনো চিকিৎসক,কখনো শিক্ষক,আবার কখনো সমাজকর্মী,মনোবিদ,পুষ্টিবিদ, কাউন্সেলর এবং সমাজতাত্ত্বিকও বটে। মনে রাখা প্রয়োজন, সবসময় একজন নার্সকে কিন্তু বন্ধুর মতো হয়েই রোগীর পাশে থাকতে হবে এবং সামাজিক-মানসিক-শারীরিক ভাবে তার সেবা করতে হবে।স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নার্সরাই মায়ের মতো কিংবা বন্ধুর মতো হয়েই একজন রোগীর পাশে থাকেন।
নিজের ঘাম ঝরা পরিশ্রম দিয়ে রোগীকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করে তোলেন। তাইতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন রোগীর সাথে ডাক্তারের থেকে নার্সের যোগাযোগ এবং সহানুভূতিশীল বন্ধন অনেক বেশি থাকে।নার্সরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দিন-রাত পরিশ্রম করে,লড়াই করে,নানান অবজ্ঞা-লাঞ্ছনা সহ্য করে এক বুক ধৈর্য ও শক্তি নিয়ে জীবনের চলার পথে এগিয়ে চলে।
তাই বলা যায় শ্রেয়, হৃৎপিন্ড ছাড়া মানবশরীর যেমন অসম্পূর্ণ ঠিক তেমনি নার্স ব্যাতিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রও অসম্পূর্ণ। তাই নার্সরাই হল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হৃৎপিন্ড। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকে থাকার পেছনে নার্সদের অবদান অনস্বীকার্য। নার্সরাই অক্সিজেন হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে মানব শরীরের মতো বাঁচিয়ে রাখে।
Author
-
জয়দেব বেরা ভারতবর্ষের একজন তরুণ কবি, সাহিত্যিক এবং লেখক। তিনি মানসী সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক। তিনি রামধনু ছদ্মনামে দুই বাংলায় পরিচিত। পিতার নাম রিন্টু বেরা ও মাতার নাম মানসী বেরা। তিনি ১৯৯৭ সালে ১২ই আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বৃন্দাবনপুর নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত গ্রাম্য পরিবেশে বড় হয়েছেন।তিনি বাজকুল মিলনী মহাবিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে অনার্স নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে বি.এ. পাশ করেন। তিনি বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্ব বিষয়ের উপর প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে এম.এ. ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি হুগলির শ্রীরামপুর কলেজ থেকে Applied sociology এর উপর ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন।এবং ২০২০ সালে Post Graduate Diploma In N.G.O. Management (A.U) ডিগ্রী অর্জন করেন।তিনি NSOU থেকে ২০২০ সালে Child Rights and Protection এর ওপর একটি কোর্স কমপ্লিট করেন।তিনি ২০২১ সালে NSOU থেকে MSW ডিগ্রী অর্জন করেন।তারপর তিনি ২০২২ সালে বি.এড.(WBUTTEPA) ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি ২০২২ সালে BLIS (NSOU) ডিগ্রি অর্জন এর জন্য ভর্তি হন।তিনি ভবিষ্যতে গবেষণা কে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে চান। ●বিভিন্ন বিষয় চর্চা ও স্কলারশিপ:- Sociology, Social Work এর পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞান, Astrology, আয়ুর্বেদ,যৌনবিদ্যা, ধর্ম শাস্ত্র, সাহিত্য প্রভৃতি সহ নানান বিষয়ে চর্চা করতেন।পড়াশোনার জন্য তিনি বহু সরকারি ও বেসরকারি স্করলারশিপ লাভ করেছেন। 'জাগ্রত ছাত্র সমাজের' পরীক্ষা দিয়ে মায়াপুর ইসকন মন্দির থেকে ২০১৩ সালে 'ভক্তিবেদান্ত স্কলারশিপ প্রাপ্ত হন।এছাড়াও তিনি ২০১৪ সালে 'ভূগোল' বিষয়ের উপর পরীক্ষা দিয়ে 'ভূগোল প্রস্তুতি মঞ্চ' থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ●পেশা: বর্তমানে তিনি উলুবেড়িয়ার সেবাব্রত ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং,সঞ্জীবন কলেজ অফ নার্সিং এবং গভর্মেন্ট কলেজ অফ নার্সিং,শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটাল, তমলুকের মাতঙ্গিনী গভর্মেন্ট কলেজ অফ নার্সিং-এ সমাজতত্ত্বের গেস্ট লেকচারার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংস্থায় কাউন্সেলর হিসেবেও নিযুক্ত রয়েছেন। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই একজন অক্ষরকর্মী হিসেবে সুপরিচিতি। ●সদস্য: তিনি 'পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ' (আজীবন সদস্য) এবং 'ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি' এর সদস্য। ●সাহিত্যকর্ম: আনন্দবাজার, যুগশঙ্খ, জয় বাংলা, দিনদর্পণ, বিপ্লবী সংবাদ দর্পণ, প্রাসঙ্গিক পত্রিকা, মুকুর পত্রিকা, নবপ্রয়াস পত্রিকা, সাতসকাল নিউজ পত্রিকা, শুভ্রা পত্রিকা, অল্পনার কবিতা পত্রিকা, পোস্টম্যান পত্রিকা, কবিতা কুটির পত্রিকা, রঙমিলান্তি পত্রিকা, শিল্পনীড় পত্রিকা, আপনজন, জীবিকা বাহার, বইসই, নববেলা (বাংলাদেশ), দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুর(বাংলাদেশ),দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ(বাংলাদেশ), দর্পণ (বাংলাদেশ), কালের ছবি পত্রিকা(বাংলাদেশ), প্রতিভার প্রভা (বাংলাদেশ), মাসিক ঝঞ্ঝা পত্রিকা(বাংলাদেশ), স্বপ্ননীড় পত্রিকা, প্যারিস টাইমস (প্যারিস), সাময়িকী (নরওয়ে), প্রভাত ফেরী(অস্ট্রেলিয়া), আশ্রম(কানাডা) সহ বহু ম্যাগাজিনে এবং দেশ - বিদেশের অসংখ্য পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা সমাদৃত হয়েছে। ● সম্মাননা- তিনি লেখা-লেখির জন্য একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন-দুইরত্ন সম্মান, কাব্য জোত্যি সম্মান, কবিরত্ন সম্মান, মুকুর শারদীয়া সম্মান-২০১৯, স্মারক সম্মান-২০১৯, মুকুর লেখনী সম্মান-২০২০, মুকুর সাহিত্য সংকল্প সম্মান, অণুছবি অণুকৃষ্টি সম্মান, কাব্যকণিকা রত্ন সম্মাননা, ঈশপ দলিত স্মৃতি সম্মাননা-২০২১(NYRA BOOKS), কাব্যশ্রী সম্মান, মধুশ্রী সাহিত্য সম্মাননা-২০২৩, প্রভৃতি। ● লেখালেখি ও গ্রন্থ সমূহ: পশ্চিমবঙ্গে তিনি সর্বপ্রথম ক্লাস চতুর্থ শ্রেণিতে বেসরকারি ভাবে সমাজতত্ত্ব পড়াশোনা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সমাজবিজ্ঞানে উনার দুটি নতুন ভাবনা হল- "সোশ্যাল ক্লিনিক" এবং "সামাজিক ডাক্তার"।তিনি CTN টিভিতে সাহিত্য ও সমাজতত্ত্ব নিয়ে নানান আলোচনা করেছেন।তিনি উচ্চ- মাধ্যমিক স্তরের WBHA টেষ্ট পেপারও (সমাজতত্ত্ব বিভাগ) রচনা করেছেন। তিনি ফিল্ম স্টোরি ও গান লেখার পাশাপাশি একাধিক একক ও যৌথ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর লেখা ও পরিচালিত শর্ট ফিল্ম টি হল- 'প্রতারণা'। আর একটি শর্ট ফিল্ম স্টোরি হল-'পিরিয়ড' এবং 'পূজারিণী'। এবং তাঁর লেখা গান গুলি হল- 'একদিন যেতে হবে ভবপার রে', 'করোনা শেষ হবে কত দিনে', 'তোমাকে করব গো হৃদয়ের রানি' প্রভৃতি। তাঁর রচিত একক ও সম্পাদিত গ্রন্থ এবং জার্নাল গুলি হল- ★একক কাব্যগ্রন্থ- 'কবিতার ভেলা', 'কবিতায় মার্ক্সবাদ' , 'বাস্তবতা', 'কবিতারাও কথা বলে'। ★যৌথ কাব্যগ্রন্থ- কবিতার মহল্লা, প্রেমনগরী,দোহার, হেমন্তিকা, কাচের জানলা, দুই মলাটে কবিসভা, কবিতার চিলেকোঠা, সমকালের দুই বাংলার কবিতা-২ (বাংলাদেশ), নাম দিয়েছি ভালোবাসা, সৈকতের বালুকনা, কবির কল্পনায়, শব্দভূমি, হৃদয়ের প্রাঙ্গণে, কবিতা সংকলন-১, আলাপন, কবিতারা কথা বলে প্রভৃতি সহ একাধিক যৌথ কাব্যগ্রন্থ। ★একক প্রবন্ধ এর বই: 'জাগরণ', 'কোভিড-১৯ ও সমাজতত্ত্ব', 'নির্বাচিত প্রবন্ধ ও নিবন্ধ সমগ্ৰ (প্রথম খন্ড)'। ★একক নিবন্ধ এর বই : মনের কথামালা(বাংলাদেশ)।★সম্পাদনা মূলক বই- 'দলিত', 'পলাশের ডাকে বসন্ত প্রহরীরা','আদিবাসীদের সমাজ ও জীবনযাত্রা', 'প্রসঙ্গ ও প্রাসঙ্গিকতায় নারীবাদ'। ★সম্পাদনা মূলক জার্নাল- সেতু (ISSN: 2454-1923 14 th year, 37 Issue, December-2020.) ★একক সমাজতত্ত্বের বই/স্কুল পাঠ্য বই:- 'সমাজতাত্ত্বিকদের ইতিবৃত্ত', ' শিশুদের সমাজতত্ত্ব'(চতুর্থ শ্রেণি), 'উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের সাফল্য'(দ্বাদশ শ্রেনি), 'উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের প্রশ্ন সম্ভার (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি), উচ্চ মাধ্যমিক সমাজতত্ত্বের সমাধান (দ্বাদশ শ্রেণি), সমাজতত্ত্ব ও সমাজকর্মের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সেবা প্রকল্প (NSS) প্রভৃতি।
View all posts