পুরো বাংলাদেশ জুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি যেন রকেট গতিতে বাড়ছে। প্রতি দিনই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। আর তা যেন শুক্রবার আরো এক দফা বাড়াচ্ছে ইচ্ছে করে। কেননা শুক্রবার বাংলাদেশের সব অফিস আদালত বন্ধ থাকে। সময়ের সল্পতার কারণে শহরের মানুষ বন্ধের দিনেই সাপ্তাহিক বাজার করে সাধারণত। বাজারে গরুর মাংস ও ইলিশ মাছের দোকানের দিকে সাধারণ মানুষ যেতেও সাহস পাচ্ছেনা। কিনে খাওয়া তো পরের বিষয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের।
শীতের মৌসুমি সবজির ফলন শেষ দিকে হওয়ার কারণে সবজির দামও গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি। শীতের সবজির প্রায় সব গুলোর দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। আর গ্রীষ্মের যে নতুন সবজি এসেছে সে গুলোর দামও অনেক।
প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিচ চাল কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম হলেও দাম ৯০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি, কমেনি আদা রসুনের দাম। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে দেশি ছোট ২২০ টাকা, আমদানি করা বড় আদা ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। রসুন দেশি ১৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে।
ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দোকানে দাম কষাকষি করতে দেখা গেল ক্রেতা বিক্রেতাদের। বিক্রেতারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন ক্রেতার সাথে, নিলে নেন না নিলে না যান, এক টাকাও কমানো যাবেনা দাম। গত ১ মাস যাবৎ মুরগি ও ডিমের দাম যেন বেড়েই চলছে কমার কোন নামই নেই।
কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগির দাম এখন ২১৫ থেকে ২৪৫ টাকা। ডিম পারা লেয়ার মুরগির কেজি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, সোনালি মুরগীর কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। দেশি মুরগীর দাম চাইল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। একটি হাসের দাম ৬৫০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রেতা দাম হাকচ্ছেন, যার কাছে যা রাখতে পারে।
ডিমের দোকানে ফার্মের মুরগির লাল ডিম হালি প্রতি ডিমের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ফার্মের মুরগির সাদা ডিম ৪২ থেকে ৪৫ টাকা , হাসের ডিমের দাম একেক দোকানে এক রকম।
মাছের বাজারে হাহাকার ইলিশ মাছ ও বড় মাছের দোকানের দিকে মানুষ খুব কম যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষই চাষের মাছের দোকান গুলিতে ভির করতে দেখা গেল। এদিকে ভির থাকার কারণে কেজি প্রতি গত সপ্তাহের চাইতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। চাষের চিংড়ির পাশাপাশি দেশি বিভিন্ন রকমের চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের বেশ দামও চড়া।
নিন্ম আয়ের মানুষদের চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া ও সামুদ্রিক মাছের দোকান গুলিতে বেশি ভির করতে দেখা গেল। এগুলোতে দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের চেয়ে। বাজারে সব চেয়ে কম দামেই ছিল তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ, গত সপ্তাহের চেয়ে এই দুই জাতের মাছে ও কেজি প্রতি ২০/৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারের অন্য সব মাছের দামই গত সপ্তাহের চেয়ে দাম বেড়েছে।
সামনেই রোজা শুরু হবে এখনই যেন মুদি বাজারের সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দামে আগুন লেগেছে। তেল, চিনি, আটা, ময়দা, গুঁড়া দুধসহ অন্যান্য বেশ কিছু পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সপ্তাহের ব্যবধানে। সামনে রোজা তাই সব ধরনের ডালেরই গত সপ্তাহের চেয়ে দাম বেড়েছে।
আজ মিরপুরের ৩ টি বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর মানুষ বিভিন্ন দোকানে দর কষাকষি করে দেখছেন, কিছু কমে কেনাকাটা করা যায় কিনা। গরুর মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা গেল প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দামে। পাশেই অনেক গুলো খাসির মাংসের দোকানে খাসির মাংসের দাম প্রতি কেজি ১১০০ থেকে ১২৫০ টাকা রকম ভেদে। কয়েকটি দোকানে মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে।
বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা মধ্য বয়সী একজন ভদ্রলোক ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম কে বলেন, ‘বাজারে আসলে অসহায় লাগে নিজেকে। এমন অস্বাভাবিক দাম হবার কারণে পরিবারের চাহিদামত বাজার করতে পারিনা, ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকাতেই দুশ্চিন্তায় ভরে যায় মন’। এমন আক্ষেপ কথা বলেছিলেন এরকম আরও বেশ কয়েক জন ক্রেতা ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম কে।
বাজারে আগত অনেকেই মনে করেন সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা। প্রতি বছর রোজা আসলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ে সাধারণত। কিন্তু এবার রোজার আগেই কয়েক দফা দাম বাড়ার কারণে মানুষ ভয়াবহ চাপে আছে। তাই সরকারের উচিৎ সঠিক ভাবে বাজার তদারকি করা, যা তাদের একান্ত দায়িত্বও বটে।

নিত্যপ্রয়োজনীয়পণ্যের দামে মানুষ দিশেহারা, একজন প্রবীণ ক্রেতা ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম কে আক্ষেপ করে বলেন , যা দেখছি এইবার মাছ ও মুরগি খেয়ে বুঝি সেহরি করা হবেনা

মাছ ও মুরগির বাজারে দেখা গেল বেশি দাম হবার কারণে ক্রেতারা দামদর করলেও কিনছেন খুব ক্রেতাই।গত সপ্তাহের চেয়ে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে মাছ ও মুরগির বাজারে তুলনামূলকভাবে কম লোক দেখা গিয়েছে ।দরদাম করেই চলে যাচ্ছেন কিনতে না পারাতে।