নীরব ঘাতক হাড়ক্ষয়, বাঁচার উপায় কি ? এই পর্বে আমরা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
দুধের ক্যালসিয়াম হাড়ে পৌঁছায়, নাকি পায়খানায় যায়?
ভিটামিন ডি একটি ফ্যাটে দ্রবণীয় ভিটামিন। পৃথিবীর খুবই কম সংখ্যক প্রাণিজ খাদ্যে ভিটামিন ডি আছে। যেমন, তৈলাক্ত মাছ (স্যামন, সার্ডিন, টুনা, হ্যারিং ও ম্যাকারেল), কডফিশের লিভার অয়েল, গ্রাস–ফিড পশুর লিভার ও ডিমের কুসুম। এসব খাবারের অধিকাংশই আমাদের দেশে অপ্রতুল। আর যা আছে তা দিয়ে চাহিদার খুব কমই পূরণ হয়।আসলে ভিটামিন ডি এর আসল উৎস হল – রোদ। সূর্যের আল্ট্রা–ভায়োলেট রশ্মি আমাদের স্কিনের নিচে অবস্থিত কোলেস্টেরল জাতীয় তৈলাক্ত পদার্থের উপর পড়লে ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
সূর্যের আলো কিম্বা খাদ্য – যেখান থেকেই আসুক, এই ভিটামিন ডি নিষ্ক্রিয়। একে একটিভ করার জন্য দুটো ধাপ অতিক্রম করতে হয় – যার প্রথমটি ঘটে লিভারে এবং দ্বিতীয়টা ঘটে কিডনিতে। এই দুই ধাপ অতিক্রম করার পর সক্রিয় ডি – Calcitriol মূলত হরমোনের ন্যায় কাজ করে। এই calcitriol এর কাজ কি?
একটিভ ভিটামিন ডি অন্ত্রে খাদ্য থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট শোষণে ভূমিকা পালন করে। এ দুটোই শক্তিশালী হাড় গঠনের মূল উপাদান।
একটিভ ভিটামিন ডি ব্লাডে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট এর লেভেল ঠিক রাখে।
এমন যদি হয়, আপনি প্রচুর ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাচ্ছেন কিন্তু আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি আছে। তাহলে কি হবে? খাদ্যের ক্যালসিয়াম শরীরে শোষণ হবে না, মলের সাথে বেরিয়ে যাবে। ফলে রক্তে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট এর ঘাটতি পূরণ হবে হাড় থেকে।ফলে এত ক্যালসিয়াম খেয়েও কোন লাভ হল না – হাড় ক্ষয় চলতেই থাকবে।
হাড় মজবুত রাখতে দুধ খাওয়ার পরামর্শ সবাই দেয়, কারণ দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে।আপনি কি জানেন ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন এর মানুষ সবচেয়ে বেশি দুধ খায়? অথচ হাড়ক্ষয়ের হার এসব দেশেই সর্বাধিক। কারণ এরা রোদ পায় সামান্যই – তাই ডিএর ঘাটতি।
আমেরিকার ৪২% মানুষের ও ভারতের প্রায় ৭৬% মানুষের ভিটামিন ডি ঘাটতি আছে।বাংলাদেশে কোন পরিসংখ্যান নাই। তবে, বাংলাদেশে অবস্থা আরও ভয়াবহ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে।
কি ভাই, ক্যালসিয়ামের আশায় গ্লাসে গ্লাসে দুধ খাচ্ছেন। কিন্তু ক্যালসিয়াম মলের সাথে বের হয়ে যাচ্ছে না তো?
চলবে…….