দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জন্য চারটি জাহাজ কিনতে চীনের সঙ্গে ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় শিগগিরই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
বিএসসির চার জাহাজ ক্রয় প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্বাক্ষর করেন। চুক্তিমূল্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন আরএমবি, বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় চীন সরকার এ প্রকল্পের জন্য ২ শতাংশ সুদহারে নমনীয় ঋণ দেবে। ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর।
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের দ্বিতীয় প্রান্তিক ইপিএস প্রকাশ
এতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এ চারটি নতুন জাহাজ সংগ্রহ প্রকল্প বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন সক্ষমতা বাড়াবে, বৈদেশিক বাণিজ্যের আরো প্রসারে সহায়তা করবে এবং সমুদ্রপথে দেশটির স্বায়ত্তশাসন উন্নত করবে। চীন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুপ্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বের নীতি অব্যাহত রাখবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরো সুফল বয়ে আনবে।
জাহাজের বহর বাড়ানোর মাধ্যমে বিএসসির আয় ও মুনাফা বৃদ্ধির কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২২টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটির পর্ষদ। এরই মধ্যে ১৫টি জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। বাকি সাতটি জাহাজ কিনতে অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের জন্য প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (প্রি-ডিপিপি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএসসির জন্য পাঁচটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, নতুন এসব জাহাজ আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের নৌপরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।