আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাযকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। দিনশেষে প্রধান সূচক সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাজারজুড়ে ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। লেনদেনের পরিমাণও আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
আজ ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১.৯১ পয়েন্ট বেরেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫৪৬৭.৮৪ পয়েন্টে।এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ০.৩০ পয়েন্ট কমে ১০৯৪.৭৯ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৬.৩২ পয়েন্ট বেড়ে ২১০৪.১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৫৫৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৮ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩ টি কোম্পানির, বিপরীতে ১৯৪ কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৭১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু বড় মূলধনী শেয়ারে কেনাকাটার চাপ থাকায় সূচক ইতিবাচক অবস্থানে থাকে। তবে অধিকাংশ খাতে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান–আমেরিকা উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন বিনিয়োগকারীদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেকেই বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত বিরত থাকছেন।যার প্রভাব শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও পড়ছে।
সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় অনেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাজারে প্রত্যাশিত গতি ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে না; লেনদেনেও রয়েছে ধীরগতি, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করছে অনিশ্চয়তা ও এক ধরনের ভীতি।
তবে একটি বাস্তবতা হলো, আন্তর্জাতিক ইতিবাচক ইস্যুতে আমাদের বাজার সাধারণত তেমন সাড়া দেয় না। কিন্তু নেতিবাচক কোনো খবর এলে তার প্রভাব দ্রুতই পড়ে, আর তখনই বাজারে পতনের চাপ বাড়তে দেখা যায়।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সূচকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা আসতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নতুন কোনো নেতিবাচক খবর এলে বাজারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।