সব কিছুতেই শৃঙ্খলার জন্য নিয়ম। মন্দ দমন করে, ভালোর জন্য নিয়ম। তবে নিময় কানুন কি সবই উত্তম? কখনো কখনো না, যাকে আমরা মাঝেমধ্যে বলতে পারি হিতে বিপরীত।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ২০২৪ সালের ২০ মে মাসে জারি করা আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটি কোম্পানির শেয়ার জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরে বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়, তার যেকোনো একটি শর্ত লংঘন করলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে ।
আবারও নতুন করে ৯ টি কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে গেল
বিএসইসির ঐ নির্দেশনা চালু হওয়ার পরে গত দেড় বছরে অনেক কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। যার ফলে বহু বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কী কী কারণে একটি কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে যেতে পারে
গত দেড় বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু কোম্পানি সময় মতো ঘোষিত লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে ও সময় মতো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন হয়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরি আসার ফলে শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর কিছু দিন পর পরিচালকদের ইচ্ছে মতো সময়ে ঘোষিত ডিভিডেন্ড বণ্টন করে বা বোর্ড সভা করে সেই কোম্পানিটি পুনরায় ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ফিরে আসলে পুনারায় শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই নিয়মটি পক্ষান্তরে পরিচালকদের হাতে শেয়ার প্রাইস হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষমতা প্রদান করার শামিল। অর্থাৎ পরিচালকরা চাইলেই এই কুট-কৌশল ব্যবহার করে শেয়ার প্রাইসের হ্রাস-বৃদ্ধি অর্থাৎ ম্যানিপুলেট করতে পারছে। তাই একজন শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি মনে করি, এই সব কালো নিয়মের অবসান করা প্রয়োজন।
পরিচালকদের মর্জির উপর শেয়ার প্রাইসের হ্রাস-বৃদ্ধির এই কালো নিয়ম কারা ও কাদের স্বার্থ রক্ষায় তৈরি করলো, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই বিষয়টি বিবেচনা করে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের বিনিয়োগকারীদের প্রতিবাদ করা উচিত।
মোহাম্মাদ আলী সোহেল
শেয়ার বাজার বিনিয়োগকারী
ঢাকা, বাংলাদেশ