চলতি অর্থবছর শেষ হতে বাকি আছে আর মাত্র ৪৫ দিন। এখন থেকেই আপনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করুন এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা করতে থাকুন। এই বিনিয়োগ আপনার কর কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে। পুরো বছরের আয় থেকে অল্প অল্প জমিয়ে বছরের শেষ দিকে কোথাও বিনিয়োগ করুন। দেখবেন, আপনাকে কম কর দিতে হচ্ছে। কর বছরে বিনিয়োগ করেই বৈধ উপায়ে আপনি কর কমাতে পারেন। কীভাবে বৈধ পথেও কর কমানোর সুযোগ আছে সে বিষয়ে আজকের প্রতিবেদন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কিছু খাত বলে দিয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে আপনি কর ছাড় বা কর রেয়াত পাবেন। একজন করদাতা তাঁর বছরের পুরো আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। এই সুবিধার আওতায় আপনার বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থ করছাড় পাবেন। তবে কর ছাড়ের পরিমাণ কোনো ভাবেই ১০ লাখের বেশি হবে না।
বাংলাদেশে সাধারণ করদাতাদের জন্য সঞ্চয়পত্র কেনা কিংবা ডিপিএস (DPS) করা হলো কর কমানোর অন্যতম সহজ পদ্ধতি। সঞ্চয়পত্রে সুদ বেশি হওয়ায় তুলনামূলক ভাবে আপনি বেশি মুনাফা পেতে পারেন, আবার আয়করে ছাড়ও পাবেন। অন্যদিকে আপনি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস করলেও সেই টাকার ওপর করছাড় পাবেন। আবার দুটো খাতেই যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন।
উদাহরণ গত জুলাই থেকে জুন মাস পর্যন্ত আপনি ১০ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন। পুরোটাই আপনার করযোগ্য আয়। আপনি এই আয়ের ২০ শতাংশ বা ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। আপনি সারা বছর একটু একটু খরচ বাঁচিয়ে ২ লাখ টাকাই বিনিয়োগ করলেন। তাহলে আপনি আপনার কর থেকে ৩০ হাজার টাকা (বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ হিসেবে) ছাড় পাবেন।
এবার দেখা যাক, আপনি বিনিয়োগ না করলে কত কর হতো। বর্তমান নিয়ম অনুসারে, প্রথম সাড়ে তিন লাখ টাকার জন্য কোনো কর নেই। এর মানে, আপনার ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ওপর কর বসবে। সেই টাকার প্রথম ১ লাখ টাকার ৫ শতাংশ হারে কর ৫ হাজার টাকা। পরের ৩ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে প্রদেয় কর ৩০ হাজার টাকা। বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ১৫ শতাংশ হারে সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে করের পরিমাণ হবে ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।
কিন্তু আপনি যেহেতু বিনিয়োগ করেছেন, তাই আপনি ৩০ হাজার টাকা ছাড় পাবেন। বিনিয়োগের কর রেয়াতের কারণে আপনার কর দাঁড়াবে সাড়ে ৪২ হাজার টাকা। শুধু বিনিয়োগ করেই এতটা ছাড় পাচ্ছেন আপনি।
সঞ্চয়পত্র ছাড়াও করছাড় নেওয়ার জন্য মোট ৯ টি খাত ঠিক করে দিয়েছে এনবিআর। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে করছাড় মেলে—এটি সচেতন করদাতারা জানেন। এমন আরও আটটি খাত আছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে আপনি করছাড় পেতে পারেন। এগুলো হলো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার ক্রয়, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য তহবিলে দেওয়া চাঁদা, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাঁদা, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বিমার তহবিলে চাঁদা, সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে চাঁদা।
এর পাশাপাশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস করলেও কর রেয়াত পাবেন। এসব ডিপিএস স্কিমেও বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকার ওপর এই করছাড় দেওয়া আছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কর রেয়াত পাওয়ার জন্যে বেশির ভাগ মানুষ ই সঞ্চয়পত্রের উপর নির্ভরশীল ।করোনা পরবর্তী ফ্লোর প্রাইজে কারণে শেয়ার বিক্রিতে বাধা পাওয়ায় বহু মানুষ এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। আশা করা যায় ভবিষ্যতে বাজার ভালো হলে শেয়ার বাজারে বহু মানুষ বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।