বিদেশ থেকে যে কোনো ব্যক্তি দেশে আসার সময় কোন ঘোষণা ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি অনুযায়ী। তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনতে গেলে বন্দরে এসে একটি নির্দিষ্ট ফরমে ঘোষণা দিতে হয়। ঘোষণার সপক্ষে অর্থের উৎস প্রমাণাদি দিতে হয়। তবে বর্তমান রিজার্ভ-সংকট কাটাতে মুদ্রনীতি এই অংশের ধারাটি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন সদ্য সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
তিনি বলেন, এখন বিদেশ থেকে কেউ আসার সময় ১০ হাজার ডলারের বেশি আনলে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু এটা কেন করা হয় জানি না। আমার মতে, এখন এটা রহিত করার কথা ভাবা যায়, এখন ভাবা দরকার। কারণ এখন আমাদের রিজার্ভের সংকট রয়েছে। বিদেশ থেকে বেসরকারি খাতের ঋণ গ্রহণে কিছু সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সুপারিশ করেন তিনি।
গত ৯ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বিআইডিএসের তিন দিনের সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থনীতির নীতি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক মন্ত্রী, আমলা, অর্থনীতিবিদ, গবেষকেরা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন।
ড. শামসুল আলম বলেন, দেশে বর্তমানে রিজার্ভ-সংকট রয়েছে, এটা আমরা সবাই জানি। যদিও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে আসছে। এই মুহূর্তে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসা উচিত। কারণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি রিজার্ভ বাড়াতেও সহায়তা করে। সেখানে বিদেশ থেকে আসার সময় বৈদেশিক মুদ্রার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত নয়। শুধু বৈদেশিক মুদ্র নয়, স্বর্ণের বার আনার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, স্বর্ণের বার ও কয়েন দেশের সম্পদ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মূল্য সংযোজন করে। এ বিষয়ে অনেকে বলতে পারেন, এটার অবাধ সুযোগ দিলে ভারতে পাচার হয়ে যাবে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, যেহেতু অর্থনীতি এখন কিছুটা অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছে, তাই বিদেশি ঋণ নেওয়ার সময় কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে।