শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ নীতিমালায় বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে না। নতুন নীতিমালা ২০২৫ সালের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশের নীতিমালা করে তা পরিপালনের জন্য সকল তফসীলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠিয়েছে।
নতুন নীতিমালায় কেবল মাত্র পঞ্জিকাবষের্র মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা যাবে, পূর্বের পূঞ্জীভূত মুনাফা হতে কোন নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না।
কোনো ব্যাংকের নগদ জমার হার (সিআরআর) ও সংবিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (স্ট্যাচুটরিলিকুইডিটি রেশিও—এসএলআর) ঘাটতির কারণে দণ্ড সুদ ও জরিমানা অনাদায়ী থাকলে এমন ব্যাংকগুলোও লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
এছাড়া ব্যাংকের ঋণ, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে কোন প্রকার প্রভিশন ঘাটতি থাকা যাবে না।
একই সঙ্গে কোন ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণ ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোন প্রকার ডেফারেল সুবিধা গ্রহণ করলে তারাও লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
লভ্যাংশের শর্তগুলো পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারলেও, একটি ব্যাংক শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণ কোনক্রমেই পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশের অধিক হবে না। তবে যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর, ঝুঁকি ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করতে পারবে তারা সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে।
সেক্ষেত্রে, তাদের লভ্যাংশ প্রদানের অনুপাত সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না, এবং লভ্যাংশ বিতরণ পরবর্তী মূলধন পর্যাপ্ততার হার কোন ভাবেই ১৩.৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।
কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশের বেশি, কিন্তু ১৫ শতাংশের কম মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে, সেসব ব্যাংক তাদের সামর্থ্য অনুসারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ বিতরণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে, লভ্যাংশ প্রদানের অনুপাত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ হতে পারবে। লভ্যাংশ বিতরণ পরবর্তী মূলধন পর্যাপ্ততার হার কোন ভাবেই ১২.৫ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ এর ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ২০ শতাংশেরও বেশি।
নতুন নীতিমালা নিয়ে কয়েকজন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনেক উদ্যোক্তা–পরিচালকরা পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন এবং তা পরিশোধ করছেন না। ফলস্বরূপ, অনেক ঋণদাতার আর্থিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।
তাছাড়া যখন এই উদ্যোক্তা–পরিচালকরা ব্যাংকের বোর্ডে বসেন, তখন ব্যাংকগুলির আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকা সত্ত্বেও তারা লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। যেহেতু উদ্যোক্তা–পরিচালকরা ব্যাংকগুলির শেয়ারের একটি বড় অংশের মালিক, তাই তারা লভ্যাংশের প্রাথমিক সুবিধাভোগীও।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নিয়মগুলি এই অনিয়মগুলোকে কিছুটা রোধ করতে সাহায্য করতে পারে, তারা যোগ করেছেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন ,যে ব্যাংকগুলোর জন্য লভ্যাংশ নীতি কিছুটা কঠোর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে উন্নত সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
দেশের শেয়ার বাজারে নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাংকার বলেন, ‘আগে অনেক ব্যাংক ডিফারাল সুবিধা গ্রহণ করেও শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ দিত। এখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
ফলস্বরূপ ব্যাংকগুলোর শেয়ারের দাম প্রভাবিত হতে পারে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘যদি কোনও ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকে, তাহলে তারা কেন লভ্যাংশ দেবে?’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ব্যাংকের স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। ‘এটি শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতকেই লাভবান করবে‘ আশা প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।