দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের জায়ান্ট কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। চলতি বছরে কোম্পানিটির চার উদ্যোক্তা পরিচালক ১৩২ কোটি টাকার ও বেশি টাকার শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন ।
দেশের শেয়ারবাজারে যখন টানা দরপতন চলছে এবং লেনদেনও আশঙ্কাজনকভাবে কমছে তখন সেকেন্ডারি বাজার থেকে ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিলেন কোম্পানিটির পরিচালকবৃন্দ।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন স্কয়ার ফার্মার উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে ৩০ লাখ শেয়ার ক্রয় সম্পন্ন ও হয়েছে। সর্বশেষ বাজারমূল্য ২২০.১০ টাকা অনুযায়ী ৬০ লাখ শেয়ারের দাম ১৩২ কোটি টাকার ও কিছু বেশি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূত্রে জানা গেছে, চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার থেকে এই ৬০ লাখ শেয়ার কিনবেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল এস চৌধুরি, ভাইস চেয়ারম্যান রত্না পাত্র, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তপন চৌধুরি ও পরিচালক অঞ্জন চৌধুরি। সম্পর্কে তাঁরা ভাইবোন এবং প্রয়াত শিল্পোদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ছেলে-মেয়ে।
ধারণা করা যাচ্ছে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকেরা কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় তাঁরা কোম্পানিটির শেয়ারে এমন বিনিয়োগ করছেন। সার্বিক প্রেক্ষাপটে এ বিনিয়োগকে ‘সেরা বিনিয়োগ’ বলেও মনে হয়।
কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকেরা শেয়ার কেনার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে প্রত্যেকে ১৫ লাখ করে মোট ৬০ লাখ শেয়ার কেনার কথা জানিয়েছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, ৩ মার্চ, ১০ মার্চ এবং ১২ মার্চ উক্ত ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।
চলতি মন্দা বাজারে নিজেদের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করাকে সেরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। কারণ, তাদের কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের ধারণা রয়েছে। বর্তমান বাজারে কোম্পানির শেয়ারের যে দাম তাতে এ বিনিয়োগ ভবিষ্যতে তাদের ভালো রিটার্ন দেবে।
এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শেয়ারবাজারে যখন অস্বাভাবিক দরপতন চলছিল, তখনো স্কয়ার ফার্মার এই চার উদ্যোক্তা পরিচালকের প্রত্যেকে তিন লাখ করে শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন। তাতে কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন থেমেছিল। এমনকি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতেও সহায়তা করেছিল সে সময়ের শেয়ার কেনার ওই ঘোষণা।
উল্লেখ্য, স্কয়ার ফার্মার চার উদ্যোক্তাকে শেয়ার কেনার ঘোষণা আগামী এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর থেকে কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারবেন না তাঁরা। কারণ, আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে থেকে ওই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানির পর্ষদে অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এর উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা শেয়ার কেনাবেচায় অংশ নিতে পারেন না। স্কয়ার ফার্মার আর্থিক বছর শেষ হবে ৩০ জুন। সেই হিসাবে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ১ মে থেকে।
স্কয়ার ফার্মার মতো গত মাসে দেশের আর এক বড় শিল্পগোষ্ঠী এসিআই লিমিটেডের উদ্যোক্তাগণ তাদের কোম্পানির রেকর্ড পরিমাণ শেয়ার কিনেছেন বাজার থেকে। এছাড়া এপেক্স ফুটওয়ারের পরিচালক ও শেয়ার কেনার ঘোষণা করেছিলেন।
দরপতনের পরিস্থিতিতে স্কয়ারের চার উদ্যোক্তার মতো এসিআই লিমিটেড ও এপেক্স ফুটের শেয়ার কেনার ঘোষণাগুলো বাজারের জন্য বেশ ইতিবাচক এবং ভালো উদাহরণ। এ রকম খারাপ সময়ে অন্য কোম্পানির উদ্যোক্তারাও যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক বাড়বে।