শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ব্যাংক পিএলসির পর্ষদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৮০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছিল। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় মূলধনসংক্রান্ত শর্ত পূরণে বন্ডটির আকার বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
গতকাল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সার্কুলার রেজল্যুশনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছে ব্যাংকটি।
তথ্যানুসারে ব্যাসেল-৩-এর সঙ্গে সংগতি রেখে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি চলমান রাখতে বন্ড ইস্যুর অর্থ ব্যবহার করা হবে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২.২৩ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১.৮৫ টাকা । আলোচ্য হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১.৫৫ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১.১৬ টাকা । ৩০ জুন ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫.৬০ টাকা ।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪, হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে, এর মধ্যে ১২.৫০ শতাংশ নগদ ও ১২.৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিটি ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩৯ পয়সায়।
সিটি ব্যাংক পিএলসি ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৯৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯। ব্যাংকটির ৩০.৩৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০.৯৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী ৬.৭৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪১.৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।