সুস্থ হার্ট ♥ সুস্থ জীবন : পর্ব-৪
রক্তচাপ কি?
আমরা জানি, রক্ত একটি আবদ্ধ (closed) পাইপ-লাইনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। রক্ত প্রবাহের সময় নালী (vessels) এর গাত্রে যে চাপ প্রয়োগ করে তাই রক্তচাপ (blood pressure)। সিস্টোলিক চাপ (Systolic) – হার্ট সংকোচনের সময় (যখন রক্ত হার্ট থেকে বের হয়ে যায়) রক্তনালির গাত্রে রক্তের চাপ। ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic) – হার্ট প্রসারণের সময় (যখন রক্ত হার্টে প্রবেশ করে) রক্তনালির গাত্রে রক্তের চাপ।
স্বাভাবিক রক্তচাপঃ সিস্টোলিক ১২০ মি.মি পারদ এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ মি.মি. পারদ।
উচ্চ রক্তচাপ (hypertension): সিস্টোলিক প্রেসার ১৪০ মি.মি এর বেশি এবং/কিম্বা ডায়াস্টোলিক প্রেসার ৯০ মি.মি. এর উপরে।
নিম্ন রক্তচাপ (hypotension): সিস্টোলিক প্রেসার ৯০ মি.মি এর কমবং/কিম্বা ডায়াস্টোলিক প্রেসার ৬০ মি.মি. এর কম।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ফ্যাক্টর :
১. রক্ত প্রবাহের হার (Cardiac output) – হার্ট প্রতি মিনিটে কি পরিমাণ রক্ত পাম্প করে। এটা হার্ট রেট ও স্ট্রোক ভলিউমের নির্ভর করে। হার্ট রেট বাড়লে রক্তচাপও বাড়ে।
২. রক্তনালির গাত্রের রেজিস্ট্যান্স (Peripheral vascular resistance) কোন কারণে রক্তনালির গাত্রের রেজিস্ট্যান্স বেড়ে গেলে (মসৃণতা কমে গেলে) রক্তচাপ বেড়ে যায়।
৩. রক্তের পরিমাণ (Volume of circulating blood) – কোন কারণে রক্তের ভলিউম বেড়ে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
৪. রক্তের ঘনত্ব/সান্দ্রতা (Viscosity of blood) – রক্তরস বা প্লাজমাতে প্রোটিন, ফ্যাট, ইলেক্ট্রোলাইট ইত্যাদির পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
৫. রক্তনালির নমনীয়তা (Elasticity of vessels walls) – রক্তনালী শক্ত হয়ে গেলে বা নমনীয়তা কমে গেলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।
এছাড়া, রক্তনালী সংকুচিত হয়ে গেলে, বডির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে, কোষ ও টিস্যুতে রক্ত প্রবেশ বাঁধাগ্রস্ত হলেও রক্তচাপ বাড়ে।
উল্লেখিত ঘটনার উল্টোটা হলে, রক্তচাপ কমে যায়।
চলবে…..