অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারে বেশ খানিকটা বেড়েছে। বেড়েছে রাজনৈতিক কারণে, তেলের চাহিদা বৃদ্ধি বা উৎপাদন হ্রাসের কারণে নয়। ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি হামাস গোষ্ঠীর সংঘাত শুরু হওয়ার পর আজ সোমবার সকালে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ে।
সকালে অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ১৮ ডলার বা ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে ইউএস টেক্সাস ইটারমিডিয়েট ক্রুড বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়েছে ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ২৩ ডলার বা ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৭৬ ডলার; ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়ে হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ০২ ডলার।
চলতি বছরের জুন মাসের পর তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে উঠে যায়। তবে এরপর তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ৮৪ ডলারে নেমে যায়। গত সপ্তাহেও তেলের দাম কমেছে।
সেখান থেকে আজ হঠাৎ করে মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে দিয়ে কমার ধারায় ছেদ পড়ল। মূলত বিশ্বজুড়ে উচ্চ সুদহারের প্রভাব নিয়ে শঙ্কার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সপ্তাহে ১১ শতাংশ ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৮ শতাংশ কমেছিল। সেটা ছিল গত মার্চ মাসের পর তেলের সর্বোচ্চ দরপতন।
ফিলিস্তিনের হামাস বাহিনী শনিবার ইসরায়েলে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক হামলার চালিয়েছে। এই হামলার কয়েক শ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং পরিণামে ইসরায়েলির সামরিক বাহিনী গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে। রোববার দিনভর এই হামলা চলেছে।
এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক নোটে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়লে তেলের দামও বাড়বে। তেলের দামে আরো উত্থান–পতন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে দূতিয়ালির করছে, এই সহিংসতার জেরে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। কথা ছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের প্রতিরক্ষা চুক্তির বিনিময়ে সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।
জানা গেছে, সৌদি আরবের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির বিনিময়ে তারা আগামী বছরের শুরুতে তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। সেটা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে, দামও কমে আসবে।
তবে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে সম্প্রতি যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কিছুটা থিতিয়ে পড়বে। পশ্চিমা নেতারা হামাসের হামলার নিন্দা করেছেন, যদিও ইরান ও তাদের মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ এই হামলার প্রশংসা করেছে।
ইসরায়েলের কর্তৃপক্ষ এই হামলার পেছনে ইতিমধ্যে ইরানের সম্পৃক্ততার দিকে আঙুল তুলেছে; বাজারও সেই সম্ভাবনার আশঙ্কা করছে।
অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ব্যাংকের বিশ্লেষক বিবেক ধর এক নোটে বলেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে তেল সরবরাহ ও পরিবহন কমলে তেলের বাজারে লম্বা সময়ের জন্য এই সংঘাত প্রভাব ফেলবে।
বিবেক ধর আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের হামলার সঙ্গে ইরানি গোয়েন্দা বাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা বললে দেশটির তেল সরবরাহ ও রপ্তানি হুমকির মুখে পড়বে।
Author
-
'অর্থ লিপি ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।
View all posts
'অর্থ লিপি ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।