বহুল আলোচিত সমালোচিত ফ্লোর পাইস তুলে নেয়ার পরে দেশের শেয়ার বাজারে গতি বেড়েছে বহুলাংশে। গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বেড়েছে ৮৪.৮৬ শতাংশ। এ সময় একটি বাদে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্টক এক্সচেঞ্জ ২ টির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। গত সপ্তাহের মত এত ধারাবাহিকভাবে ভাল বাজার গত ২ বছরে ও দেখা যায়নি।

সার্বিকভাবে বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২.৫৬ শতাংশ বেড়ে ৬,৩৭৩.৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬,২১৪ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১.০১ শতাংশ বেড়ে ২,১৩৮.২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২,১১৬.৭৮ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.৭৯ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮৭.৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১,৩৬২.৯৩ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৯ টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৪০ টির, কমেছে ৩৮ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৮ টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৩ টির।

গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৮ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৪ হাজার ৫৮৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ৮৪.৮৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১,৬৯৫.০৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৯১৬.৯৫ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬.০৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪.০৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০.০৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনের ৯.১০ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। আর খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭.৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে প্রায় সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ইতিবাচক রিটার্নের দিক থেকে শীর্ষে ছিল সিরামিক ১৭.৬ শতাংশ, পাট ১৫.৫ শতাংশ ও ভ্রমণ খাত ৫.১২ শতাংশ।। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে ছিল শুধু বিবিধ খাত, এ খাতে দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল যে সব কোম্পানি চার্ট আকারে নিচে দেয়া হল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম পতনের শীর্ষে ছিল যে সব কোম্পানি চার্ট আকারে নিচে দেয়া হল।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে টকার অংকে লেনদেনদের শীর্ষে ছিল যে সব কোম্পানি চার্ট আকারে নিচে দেয়া হল।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩.৮০ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৭ হাজার ৬২৬ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১০ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ১২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৮৬টির, কমেছে ৫৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির ফ্লোর তোলার ফলে বিনিয়োগকারীগন বাজারে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে ফ্লোর তোলার ফলে বিনিয়োগকারীগন বাজারে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়েছেন।বহুদিন পরে হাউজের অফিসগুলিতে বিনিয়োগকারিদের বেশ উপস্থিতি চোখে পরল,অনেককে বেশ খোশ মেজাজে দেখা গেল, কিছু হাউজের একাউন্টস ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলে জানা গেল অনেক পুরোনো বিনিয়োগকারীরা টাকা জমা দিচ্ছেন, শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য। এর মধ্যে পুরানোরাই বেশি অর্থ জমা করছেন। ৩ টি হাউজের একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট জানাল যে বেস্ট হোল্ডিংসের আইপিও উপলক্ষে বেশ কিছু নতুন বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে এসেছেন।যারা আইপিওর রিফান্ডের টাকা বাজারে বিনিয়োগ করেছেন,অল্প সময়ে লাভ পাওয়াতে তারা আরও বিনিয়োগ বাড়াবেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
বাজারে ছোট বড় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার মূল কারণ ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়াতে বেশির ভাগ কোম্পানির ২০% ,৩০% এমনকি কোন কোন টি ৪০ % দাম পরেছে, যে কারণে বড় বিনিয়োগকারীরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের আশা এই পেক্ষাপটে বাজারে বিনিয়োগ করলে দ্রত ক্যাপিটাল গেইন পাবেন।
গত বৃহস্পতিবার ২ হাউজের অফিসে গিয়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও হাউজের অফিসারদের সাথে আলাপ করে জানা গেল ভালো মান সম্পন্ন শেয়ার নিয়ে আশায় বুক বেধে আছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা আশা করছেন এই সব শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার প্রান ফিরে পাবে।