ঢাকা শেয়ার বাজার

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার ২৯ মাঘ ১৪৩২

গত সপ্তাহ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  facebook.com/dhakasharebazar2024

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ২.৫৪  শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২০.৪৩ শতাংশ। অপরদিকে  চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন কমেছে। স্টক এক্সচেঞ্জ দুইটির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

শেয়ারবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪৩.৬৩ পয়েন্ট বা ২.৫৪ শতাংশ কমে ৫৫১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫,৬৬১ পয়েন্টে। এছাড়া গত সপ্তাহে  ডিএস-৩০ সূচক সপ্তাহের ব্যবধানে ২.০৫ শতাংশ কমে ১৯৭৩.৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২,০১৫ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২.৪৫ শতাংশ কমে ১২১২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১২৪২.৫৭ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ৪১২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৫ টির, কমেছে ২৯০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৭ টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ২০টির। ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৭৪২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৯৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২০.৪৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩,৮২১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৪,৮০২ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১.৮১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ঔষধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২.৮৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ৯.৫৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত।চথুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ৯.০৪ শতাংশ।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল জীবন বীমা ৭.৯৪ শতাংশ , জ্বালানি ৪.৬৪ শতাংশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ২.৫৭ শতাংশ।  অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল পাট ৯.৪১ শতাংশ, কাগজ ৬.৩৭ শতাংশ ও ভ্রমণ খাত ৫.০৪ শতাংশ।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১.৩৯ শতাংশ কমে ১৬০০৬.৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬২৩১.৮৬ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ১.৩৭ শতাংশ কমে ৯৬৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৯৭৭২ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ২১৩.৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩৩৮ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬ টির, কমেছে ২৩৬ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির বাজারদর।

গত সপ্তাহের সার্বিকভাবে  বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেল গত সপ্তাহে কোন একক খাতের আধিপত্য ছিলনা।গত সপ্তাহে বাজারের বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীদের চরম হতাশার বাজার ছিল।বাজারে ক্যাপিটাল  গেইন ট্যাক্স ইস্যুতে বাজার ছিল টালমাটাল ,যে কারণে বাজারে তেমন কোন মুভমেন্ট না থাকার কারণে বাজারে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী সাইড লাইনে থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

গত সপ্তাহের সার্বিকভাবে  বাজার পরিস্থিতি টেক্নিকাল এনালাইসিস দিয়ে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় ,সম্প্রতি সূচক যে পয়েন্ট থেকে ইতিবাচক হয়েছিল সেই পয়েন্টের নিচে গিয়ে গত সপ্তাহের শেষ দিন সূচক সাপোর্ট পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।সেই হিসাবে রবিবারের বাজার চিত্র ইতিবাচক হবে বলে ধারণা করছেন যারা টেক্নিকাল এনালাইসিসের মাধ্যমে বাজার পর্যালোচনা করে থাকেন।

বাজার বিশ্লেষকেরা আশা করছেন সম্প্রতি ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ইস্যুর সমাধান হলে এবং  মান সম্পন্ন শেয়ার লেনদেনে ফিরলে বাজার চাঙ্গা হবে পাশাপাশি বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।বাজারে কম মান সম্পন্ন শেয়ারের অস্বাভাবিক আচরণ প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের বাজার বিমুখ করে রেখেছে।আর বাজারে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের স্বাভাবিক লেনদেন না হলে দেশের প্রকৃত বড় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হননা শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ করতে।

Author

Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।