দেশের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু কোম্পানির মালিকানা বা শীর্ষ নেতৃত্বে বিএনপির সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এসব কোম্পানির শেয়ার দর ও কার্যক্রমে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। এমনকি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করার পরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে গ্রুপে কোম্পানিগুলোর নামের তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট প্রধান কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও গ্রুপের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো
মাল্টিমোড গ্রুপ (আবদুল আউয়াল মিন্টু)
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর মালিকানাধীন কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এমন খবরে সম্প্রতি এই কোম্পানির শেয়ার দর অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে তিনি তিনি ফেনী-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। সবার ধারণা তিনি মন্ত্রী ও হতে পারেন। এছাড়াও তার পরিবারের সদস্য দুলামিয়া কটন ও প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক হিসেবে আছেন বলে জানা গেছে।
মুন্নু গ্রুপ (আফরোজা খান রিতা)
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত নেত্রী আফরোজা খান রিতার মালিকানাধীন মুন্নু গ্রুপের তিনটি কোম্পানি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত। এগুলো হলো: মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড।মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড।
এছাড়া এমপি হয়েছেন এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট প্রধান কয়েকটি কোম্পানি
দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, সায়হাম টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, ডাকা ডায়িং লিমিটেড, লিবরা ইনফিউশনস, জিবিবি পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এমবি ফার্মা, ঢাকা ব্যাংক এবং এবি ব্যাংক লিমিটেড।
এছাড়াও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছেন অনেক বড়ো বিনিয়োগকারী। এমনকি কোন কোন কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা কেউ কেউ মন্ত্রিপরিষদেও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা হলো, রাজনৈতিক খবরের ওপর ভিত্তি করে এসব শেয়ারের দাম অনেক সময় অস্বাভাবিক ওঠানামা (স্পেকুলেশন) করে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত রাজনৈতিক বিবেচনায় সল্পমেয়াদি বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা উচিত নয়।
Author
-
মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি উপ-মহাব্যবস্থাপক, জাহান সিকিউরিটিজ লিমিটেডের। পোর্টফোলিও পরিচালনায় সুদক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি ২০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সহিত পুঁজিবাজারের সাথে যুক্ত আছেন।
View all posts