কবি টিএম মিলজার হোসেন ব্যতিক্রমী কবিতা লেখা এবং স্রোতের বিপরীতে হাঁটা একজন মানুষ। তাঁর কবিতার বিষয় দেশ, মানুষ ও প্রকৃতি। মূল অবলম্বন- আদর্শ, হতাশা, দ্রোহ, সমসাময়িক অস্থির সময়, অধর্ম, হিংসা, প্রেম ও প্রতিবাদ।
উৎস প্রকাশনী সত্ত্বাধিকারী, প্রকাশক ও নন্দিত লেখক মোস্তফা সেলিম জানান, কবি টিএম মিলজার হোসেনের কাব্যগ্রন্থের কবিতা গুলো খুবই ব্যতিক্রম ধরণের। বইটির চমৎকার প্রচ্ছদটি করছেন কবি ও প্রচ্ছদ শিল্পী নির্ঝর নৈঃশব্দ। বইটি বাজারে প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন।

আসছে ২৫ শে মার্চ কবি মিলজারের বড় মেয়ের জন্মদিনে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নরক ভুমি’ পাঠকের হাতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন।
লেখক ও প্রকাশক মোস্তফা সেলিম জানান, ২৫ শে মার্চ থেকে শাহাবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের ৩য় তলার উৎস প্রকাশনের শোরুম থেকে সশরীরে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। রকমারির ওয়েবপেজ ও রকমারির ফেসবুক পেজ থেকে বইটি অর্ডার করা যাবে ২৫ মার্চ থেকে। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০ টাকা।
২৫ মার্চের আগেই উৎস প্রকাশনের ফেসবুক পেজসহ আরও ২টি ফেসবুক বিসনেস পেজ Nine-2 Shopee ও Wearable. Mart থেকে বইটি প্রিঅর্ডার করা যাচ্ছে।
বইয়ের নাম ‘নরক ভূমি’ কেন? জানতে চাইলে কবি টিএম মিলজার হোসেন বলেন, বহুকাল হতেই ধরণীর বুকে পুড়ছে মানবিক মন-মস্তিষ্ক। যদিও চারিদিকে দৃশ্যমান ও বহমান দাহকালীন এই সময়, কি হানাহানি কি টানাটানি কি মারামারি! যত্ন করেই সহজ জীবনকে করছে জটিল প্রায় সবাই।
যে শিশুটির বাবা-মা বেঁচে নেই কিংবা ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও ইউক্রেনে যে শিশুটির নিজ শরীর তার বাড়ির সঙ্গেই বোমায় ক্ষত-বিক্ষত, তার কাছে পৌরাণিক নরক কিছুই নয়। যতটা ভয়ংকর এই নরক ভূমির নরক নগরী। স্বর্গ যেথায় পৌরাণিক বিলাস মাত্র।

এই মনুষ্য প্রাণী, ধুলো আর ধোঁয়ার পৃথিবীতে কবির মন মস্তিষ্ক পুড়ছে বহুকাল কাল ধরেই। এই দায়বদ্ধতা ও নানাবিধ ভাবনা থেকেই আমি আমার কাব্যগ্রন্থের নাম দিয়েছি ‘নরক ভূমি’।
তিনি আরও বলেন, পুরো পৃথিবীই মানুষের সৃষ্ট জটিল সব অস্থিরতায় ভুগছে, এই বাস্তবতায় ‘নরক ভূমি’ নামের বাইরে কিছুই ভেবে পাইনি পাণ্ডুলিপির নাম দেয়ার জন্য। আমি মনের করি পৃথিবীর প্রায় সব মানুষেরই জীবন ও বাসস্থান অদৃশ্য নরক ভূমি, তা সে বুঝুক কি নাইবা বুঝুক কিংবা অনুভব না করলেও।
প্রায় পুরো পৃথিবীই দৃশ্যত কিংবা অদৃশ্যত নরক ভূমি। এই সমকালীন নিষ্ঠুর বাস্তবতার দায়বদ্ধতায় লিখেছি আমার কাব্যগ্রন্থ ‘নরক ভূমি’। পৃথিবীতে পুরোদার দৃশ্যত ও বহমান ছবির দৃশ্যকল্প উঠে এসেছে প্রতিটি কবিতায়। আপনি বলতেও পারেন ‘অস্থির সময়ের পোড়া কবিতা’। কবিতাগুলো গত ৩০/৩২ বছরের মধ্যে লেখা।

জানা যায়, কবি মিলজার শুদ্ধতম কবি খ্যাত জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত ধানসিঁড়ি নদীর তীরবর্তী জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে পিতৃপুরুষের আদি বাড়িতে কেটেছে তাঁর শৈশব-কৈশোরের ১৪টি বছর। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কবিতার সাথে বেঁড়ে ওঠা, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও জীবনানন্দ দাশের কবিতার সাথেই চলা।
ধানসিঁড়ি নদীর জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দের শৈল্পিক সুরের মূর্ছনায় দোলে উঠতো তাঁর শিশুমন। ধানসিঁড়ি নদীতে পাল তুলে নৌকা, মাঝিরা গান, নদীর বুক চিড়ে ঢেউ তুলে চলমান ট্রলার, গতিময় স্পিডবোর্ড, যাত্রীবাহী স্টিমার ও লঞ্চ তাকে নিদারুনভাবে ভাবিয়ে তুলতো। রহস্যময় এক মাদকতায় ডুবে থাকতেন তিনি। আর ভাবতে ভাবতে ডুব দিতেন আধুনিক ও পৌরাণিক কল্পরাজ্যে…

কবির মূল কাজের স্থান পুঁজিবাজার হলেও তিনি ভালোবাসেন লেখালেখি। নরওয়ে থেকে প্রকাশিত ‘সাময়িকী’র মাল্টিমিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে ‘ঢাকা শেয়ার বাজার’ অনলাইন পোর্টালের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।