ঢাকা শেয়ার বাজার

১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার ১ মাঘ ১৪৩২

এলপিজি বাজারের অস্থিরতা কমাতে আমদানির উদ্যোগ বিপিসি’র

সবার আগে শেয়ার বাজারের নির্ভর যোগ্য খবর পেতে আপনার ফেসবুক থেকে  “ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম” ফেসবুক পেজে লাইক করে রাখুন, সবার আগে আপনার ওয়ালে দেখতে। লাইক করতে লিংকে ক্লিক করুন  facebook.com/dhakasharebazar2024

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি খাতের তীব্র সংকট নিরসন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। এই বাস্তবতায় সরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করাই বিপিসির মূল লক্ষ্য।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতায় নিয়মিত আমদানি করতে পারছে না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

বিপিসি চেয়ারম্যানের মতে, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা গেলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে, সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রাহকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে সরকার আপাতত কেবল আমদানির দায়িত্ব নেবে; তবে সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক মনে করেন, বিপিসি আমদানি শুরু করলে ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং খাতের চলমান অস্থিরতা দূর হবে।

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, বিপিসি আমদানিকৃত গ্যাস সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা না করলে বাজারের মূল সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হতে পারে।

বর্তমানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপিসির এই নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে সরকারি উৎস থেকে এলপিজির জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Author

  • 'ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম' একটি নির্ভরযোগ্য শেয়ার বাজার ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অর্থ ও বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশ করে।

    'ঢাকা শেয়ার বাজার ডট কম' শেয়ার মার্কেটের প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সততার সহিত পরিবেশন করে এবং কোন সময় অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য প্রকাশ করেনা এবং গুজব ছড়ায়না, বরং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধ পরিকর। এটি একটি স্বাধীন, নির্দলীয় এবং অলাভজনক প্রকাশনা মাধ্যম।

    View all posts
Share on facebook
Facebook
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
আপনি এটাও পড়তে পারেন
শেয়ার বাজার

আপনি এই পৃষ্ঠার কন্টেন্ট কপি করতে পারবেন না।