পবিত্র মাহে রমজান মাস আমাদের মন ও দেহ পবিত্র করার বড় নেয়ামত। যারা দেহের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে চান এবং একই সাথে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, হাই কোলেস্টেরল, গ্যাস্ট্রিক, ইত্যাদি অসংখ্য রোগব্যাধি ভাল করতে চান, রমজান মাস বড় সুযোগ আসে আমাদের জন্যে নিয়ন্ত্রন করার।
রোজায় ‘অটোফেজি’ ঘটে দেহ সতেজ ও তরতাজা হয়। আমাদের নবীজি রমজান মাস ছাড়াও সপ্তাহে দুদিন নফল রোজা আদায় করতেন। জাপানি বিজ্ঞানী ও সুমি ফাস্টিং এর উপকারিতা ব্যাখ্যা করে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।
রমজান মাসে কিভাবে ওজন কমাবেন
রাতের খাবার
রাত ৮-৯ টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করবেন। এ সময় মাছ/মাংস, ডিম, শাক-সবজী খাবেন। অল্প পরিমানে ভাত কিংবা রুটি খেতে পারেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটাই ভারী আহার।
ঘুম
রাত ১০ টা – ১০.৩০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বেন। ঘুমের আগে কিছু খাবেন না।
সেহরি
যারা খুব বেশি ওজন কমাতে চান, তারা কেবল পানি খাবেন।
মাঝারি ধরনের ওজন কমাতে চাইলে, একদিন সেহরি খাবেন আর অন্য দিন কেবল পানি খাবেন।
সেহরি খেলে
কেবল প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবারযুক্ত খাবার খান। যেমন – মাছ/মাংস, ডিম, বাদাম ও শাক-সবজী। এ সময় ভাত-রুটি, দুধ, চিনি খাবেন না।
মর্নিং ওয়াক
ভোরে ওয়াকিং বা জগিং করুন। অল্প সময় ও হালকা আমেজে।
ইভিনিং এক্সারসাইজ
বিকালে ওয়েট লিফটিং এক্সারসাইজ করতে পারেন। আর যারা খুব ক্লান্তি বোধ করবেন, তারা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
ইফতার
ইফতারে প্রচুর ফলমূল, ডাবের পানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) সালাদ, ছোলা খান। এসময় কোন ডিপ ফ্রাই, ভাজা-পোড়া, গুরুপাক খাবার, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাবেন না। কিংবা এক বসাতেই রাতের খাবার শেষ করবেন না।
আশা করি, এভাবে খেলে এই রমজানেই আপনার স্বাস্থ্যের ব্যাপক নিরাময় হবে।
যারা মনে করছেন, এভাবে খেলে শক্তিহীন, অবসন্ন হয়ে যাবেন, তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং এ সময় আপনার শক্তিমত্তা অনেক বেড়ে যাবে। কারণ আপনার শরীরের ডিপ ফ্রিজে রয়েছে অফুরন্ত শক্তিভান্ডার (চর্বি)। মনে রাখবেন, দেহের ডিপ ফ্রিজে হাত না দেয়া পর্যন্ত আপনার ওজন কমবে না।